ব্যাংক থেকে ‘ফরেন ড্রাফট’ দেওয়া বন্ধ থাকায় মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রামের আমদানিকারকরা আদা আমদানি করতে পারছেন না। যে কারণে বাজারে আদার দাম বাড়ছেই।
আমদানিকারকরা জানান, বাজারে সরবরাহ কম থাকার সুযোগে টেকনাফ বন্দরের সাথে যুক্ত একটি চক্র ড্রাফট হাতবদল ও বেশি টাকা দিতে বাধ্য করে, আদার দাম কৃত্রিমভাবে বাড়াচ্ছে।
চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আদা আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বর্ডার ট্রেড চুক্তি অনুযায়ী ‘ব্যাংক ফরেন ড্রাফটে’র মাধ্যমেও মিয়ানমার থেকে আদা আমদানি হয়। টেকনাফ বন্দর দিয়ে এই আদা আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক ড্রাফট ইস্যু করে এবি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক। কিন্তু রোজার ঈদের আগ থেকে ড্রাফট দেয়া বন্ধ।
আদা আমদানিকারক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এবি ব্যাংক ড্রাফট দেওয়া বন্ধ করছে। ঈদের আগ থেকে সোনালী ব্যাংকও বন্ধ করছে ব্যাংক ড্রাফট।
আমদানিকারকরা বলছেন, কম দামে মিয়ানমারে আদা পাওয়া গেলেও, ব্যাংক ড্রাফট সংকটের কারণে আনতে পারছেন না। এতে মিয়ানমার সীমান্তে অনেক আদাবাহী ট্রাক আটকে আছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সুযোগে ড্রাফট হাতবদল করে টেকনাফ বন্দরের একটি সিণ্ডিকেট কৃত্রিমভাবে আদার দাম বাড়াচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ড্রাফটগুলো বেশি দামে বিক্রি কারণে শুরুতেই আদার দাম বেড়ে যাচ্ছে।
দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৭০ থেকে ৮০ হাজার টন আদা আমদানি হয়। এর বেশিরভাগ চীন থেকে আমদানি হলেও এবার ফলন কম হওয়ার কারণে রপ্তানি আদেশ দিচ্ছে না দেশটি। এতে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী নেতারা।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ করবেন মেয়র জায়েদা
চট্টগ্রাম চেম্বার এন্ড কমার্সের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, যারা কৃত্তিভাবে দাম বাড়াচ্ছেন- তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আদার দৈনিক চাহিদা ৭০০-৮০০ টন। সেখানে এখন পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৫০ টন।
একাত্তর/আরএ
