কানাডাজুড়ে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৯৪ লাখ একর জমি পুড়ে গেছে এবং ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবারের দাবানলকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিধ্বংসী দাবানলের ধোঁয়া কয়েকশ মাইলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ বায়ুদূষণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন অঞ্চলগুলোয় ফ্লাইট বিলম্বিত এবং ক্রীড়া ইভেন্ট স্থগিত করা হচ্ছে। খবর: সিবিসি ও বিবিসি।

গত মাসে পশ্চিম কানাডায় দাবানল ছড়ানোর পর এটি আটলান্টিক মহাসাগর উপকূলের নোভা স্কশিয়া প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এ সপ্তাহে এটি কুইবেকে আঘাত হানে। বর্তমানে এ প্রদেশটিই দাবানলের কেন্দ্রস্থল। আগুন এত বেশি ছড়িয়ে পড়েছে যে কানাডার অভ্যন্তরীণ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এটা মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বাড়তি কর্মী নিয়োগ ও বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
এদিকে কুইবেকের দাবানলের ধোঁয়া অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। কানাডার অন্যান্য শহরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কেও পৌঁছেছে সেই ধোঁয়া। ধোঁয়া পূর্ব উপকূলের অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনসহ অনেক জায়গায় ফ্লাইট বিলম্ব এবং ঘরের বাইরের অনেক কর্মকাণ্ড স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন বাসিন্দারা।
যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ পশ্চিমের শিকাগো থেকে দক্ষিণের আটলান্টা পর্যন্ত ১০ কোটির বেশি মানুষ বায়ুদূষণ সতর্কতার আওতায় পড়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া নগরবাসীকে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘন ধোঁয়ার কারণে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও ম্যানহাটানের আকাশ দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।
বৃহস্পতিবার কানাডার অনেক এলাকার বায়ুদূষণ ক্ষতিকর মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আলবার্টার জানভিয়ের শহরে বাতাসের মান সূচক (একিউআই) ৩৩৮, যেটি কিনা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ২৯৩-এর চেয়ে অনেক বেশি।

ইউএস ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস নিউ ইংল্যান্ড থেকে সাউথ ক্যারোলাইনা এবং মধ্যপশ্চিম অঞ্চলের ওয়াইও, ইন্ডিয়ানা ও মিশিগানে বাতাসের নিম্নমানের কারণে সতর্কতা জারি রেখেছে। দাবানলে ধোঁয়া নরওয়ে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বিজ্ঞানীরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬০০ জনের বেশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মী কানাডায় দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজে সহযোগিতা করতে পাঠানো হয়েছে।
দাবানলের ফলে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর আমেরিকা মহাদেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ দূষিত বায়ুর সম্মুখীন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর আমেরিকায় বায়ুদূষণ চরমে পৌঁছে। ওয়াশিংটন ডিসি, ফিলাডেলফিয়া ও নিউ ইয়র্কের বাতাসের মান লাহোর, ঢাকা ও হ্যানয়ের মতো নিম্ন স্থানে পৌঁছে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি’র একিউআই এমনটি জানিয়েছে।

দাবানলের ধোঁয়ায় বাতাসের নিম্নমানের কারণে উত্তর আমেরিকার লাখ লাখ মানুষকে ঘরের বাইরে গেলে এন৯৫ মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ শুরু করার কথা নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের। নগরীর গভর্নর ক্যাথি হচুল বলেছেন, বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের ১০ লাখ মাস্ক দেওয়া হবে।
বাতাসের মান খারাপ হওয়ায় নিউইয়র্কের সরকারি বিদ্যালয়গুলোয় শ্রেণিকক্ষের বাইরের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত, নগরীর পার্ক বিভাগের বহিরাঙ্গন ইভেন্ট বাতিল এবং সৈকত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ট্র্যাকে ঘোড়দৌড় এবং নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ায় মেজর লিগ বেসবল খেলাগুলো বাতিল করা হয়েছে। রাজধানীতে হোয়াইট হাউসের প্রাইড সেলেব্রেশানস স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিন জাতীয় চিড়িয়াখানায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে এবং প্রচণ্ড গরম ও দাবানলের সৃষ্টি করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারিন জিন-পিয়ার বলেন, জলবায়ু সংকট যেভাবে আমাদের জীবনকে বিঘ্নিত করছে তার একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হলো বর্তমান পরিস্থিতি।
একাত্তর/জো
