দেশের ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটে আসক্ত

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ০৮:৫৯ পিএম

ইন্টারনেটের কারণে ৯১ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এদের মধ্যে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে, তাদের সমস্যার ‘পুরোপুরি দায়’ ইন্টারনেটের। আর ‘মোটামুটি দায়ী’ করতে চায় ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকিরাও তাদের মানসিক সমস্যার জন্য ইন্টারনেটকে কমবেশি দায়ী মনে করছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। শনিবার সংস্থাটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারনেট বর্তমানে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডে ইন্টারনেট কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকেই। কিন্তু ইন্টারনেট তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকাংশেই নেতিবাচক ফল নিয়ে আসছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭৭৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭২.২ শতাংশ জানিয়েছে, তারা তাদের জীবনে কখনো না কখনো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

এতে বলা হয়, ৩৮.২ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনাবিষয়ক কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বাকিদের কেউ অবসর সময় কাটাতে, আবার গেম খেলতে বা ভিডিও দেখাসহ অফলপ্রসূ কাজে ইন্টারনেটে বেশি সময় ব্যয় করে। মাত্র ৪২.৯ শতাংশ যোগাযোগের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। অপরিমিত ইন্টারনেট ব্যবহার করছে ৬২.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। এদের মাঝে সর্বোচ্চ দিনে ১১ ঘণ্টার ওপরে অনলাইনে থাকা শিক্ষার্থী ৬.২ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন ৩২.৩ শতাংশ ব্যবহার করে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৮১.৫ শতাংশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে ইন্টারনেট। তাদের মধ্যে ৩৪.৩ শতাংশ জানায়, ইন্টারনেটে সময় ব্যয় তাদের স্বাভাবিক জীবনে ‘প্রচণ্ড নেতিবাচক’ প্রভাব ফেলছে। ৫৭.২ শতাংশের স্বাভাবিক জীবনে ‘কিছুটা নেতিবাচক’ প্রভাব ফেলছে। নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৯.৬ শতাংশ মনে করে, ইন্টারনেটে সময় ব্যয় তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ বিঘ্নতার জন্য দায়ী। ১৭.৮ শতাংশ ইন্টারনেটে পর্ন দেখা, সাইবার ক্রাইম, বাজি ধরা, বুলিং করা প্রভৃতি অপ্রীতিকর কাজের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পড়েছে। ২৩ শতাংশ ধীরে ধীরে অন্তর্মুখী হয়ে পড়েছে। ৩৫.৬ শতাংশ ডিপ্রেশনসহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ অনুভব করছে এবং ২০.৩ শতাংশ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে তারা।

সমীক্ষা অনুসারে, পড়াশোনার কাজে ৯৪.১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করে। কিন্তু পড়াশোনার ফাঁকে অনলাইনে প্রবেশ করলে ৫২.৬ শতাংশের পড়াশোনার মনোযোগ হারিয়ে যায়। এছাড়াও ২৫.২ শতাংশের পড়া মনে রাখতে অসুবিধা হয়, ৫৭ শতাংশ মনে করে অযথা সময় নষ্ট হয় এবং ৩১.২ শতাংশের পড়াশোনায় অনীহা জন্ম নেয়। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী আসক্তি অনুভব করে। এ কারণে ৩.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ‘কখনোই’ পরিবারের সঙ্গে মন খুলে গল্প করে না। ১৯.২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানায়, তারা ‘খুব একটা’ পরিবারের সঙ্গে মন খুলে গল্প করে না। মাঝেমধ্যে পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দেয় ৪৪.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে আড্ডা না দেওয়া শিক্ষার্থী এবং পরিবারের মাঝে একধরনের দূরত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাদের আত্মকেন্দ্রিক করে তুলেছে। ৬.৫ শতাংশের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। ২৪ শতাংশ ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনে লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছে এবং ২৫.৭ শতাংশের অফলপ্রসূ কাজে সময় নষ্ট হচ্ছে বলে জানান।

ইন্টারনেট আসক্তিতে ঘুম ও শারীরিক সমস্যাও তৈরি করছে। কখনো কখনো অতিরিক্ত সময় ধরে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার এই সমস্যা সৃষ্টি করে। ৫৮.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন পরিমিত ঘুমায় না। ৩০.৪ শতাংশ এর পেছনে তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারকে পুরোপুরিভাবে দায়ী করেছে। ইন্টারনেট ব্যবহার পর্নোগ্রাফিতেও আসক্তি বাড়িয়েছে। ভিডিওর পাশাপাশি যৌন উত্তেজক গল্প শোনা কিংবা পড়া ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এক অন্যতম আকর্ষণ। ৩২.৯ শতাংশ শিক্ষার্থীই ওয়েবসাইটে এসব দেখে বা পড়ে। আর এ কারণে ৩৫.১ শতাংশ শিক্ষার্থীর মাথায় বিভিন্ন সময় এবিষয়ক চিন্তা আসে। এছাড়া ১৩.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী সব সময় এই ধরনের কাজের প্রতি আগ্রহ অনুভব করে, ২৫.৫ শতাংশের মনে নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে, ১৫.৩ শতাংশ বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে অসম্মানের দৃষ্টিতে দেখে, ১০.৫ শতাংশ অনৈতিকভাবে যৌনতৃপ্তি উপভোগ করে। তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ২৮.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী যৌনতা সম্পর্কিত কৌতূহল মেটাতে এই ধরনের কাজ করে থাকে। ২৪ শতাংশ জানায়, তারা যৌনতৃপ্তি পেতে এবং ১৪.১ শতাংশ অবসরের খোরাক হিসাবে এই প্রকার কাজকর্ম করে। এছাড়াও, যৌনজীবন নিয়ে বিষণ্নতা থেকে ৯.৬ শতাংশ এবং একাকিত্ব ঘোচাতে ২৩.৫ শতাংশ এমন কাজ করে।

ইলেকট্রনিক ডিভাইস শিক্ষার্থীদের আচরণেও পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর ধৈর্যশক্তির হ্রাস ঘটেছে। ২৬ শতাংশ হঠাৎ রেগে যায়, ২৭.৭ শতাংশ চুপচাপ হয়ে যায়, ২২.৫ শতাংশের ভেতর জড়তা তৈরি হয়, ২৪.৫ শতাংশের মধ্যে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং ২৩.৬ শতাংশ ঘরকুনো হয়ে যায়। অন্যদিকে ৩০.২ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে, তারা যখন অফলাইনে থাকে, তখন একাকিত্বে ভোগে। ২২.২ শতাংশের মাঝেমধ্যে একাকিত্ব অনুভূত হলেও ১৭.৩ শতাংশ বিষয়টি নিয়ে কখনো ভেবে দেখেনি বলে জানিয়েছে। আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ বলেন, বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেট ব্যবহার না করলে আমাদের তরুণ প্রজন্মই পিছিয়ে পড়বে। কিন্তু সমীক্ষা অনুযায়ী তারা ইন্টারনেটকে বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করতে চায়। কারণ, আমাদের দেশে বিনোদনের ক্ষেত্রগুলো প্রায়ই সংকীর্ণ হয়ে গেছে।


একাত্তর/এআর

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মর্যাদাপূর্ণ ফুলব্রাইট স্কলারশিপের সুযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো এবং দুই দেশের শিক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত...
পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করার পর তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে অবশেষে সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।...
বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দিনভর বিক্ষোভ ও দাবি আদায়ের লড়াইয়ে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত দুই বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা ব্যাংক পিএলসি এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। সোমবার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান...
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে এবং পূজামণ্ডপ দেখতে ঢাকার বাইরে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে তিনি দেশের তিন...
রাশিয়ার নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে ইউক্রেন। মাসের পর মাস ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা, যার ফলে দেশটির অন্তত পাঁচ...
জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধি ও আয়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পুরো ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র গণবিক্ষোভ ও নজিরবিহীন লুটপাটের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছু অঞ্চলে সান্ধ্য আইন...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর