যশোরে নির্মাণাধীন পাওয়ার স্টেশনের ছাদের ঢালাই ধসে পড়ে ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে কারবালা পাওয়ার স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আহতরা হলেন তরিকুল (৪৫), খোকন (৩০), শিমুল (২৮), মোমিনুর (২৭), আব্দুল হাই (২৮), ইলিয়াস (৪৫), আকিদুল (৩৫), হাফিজুর (৫০), ইমান আলী (৫০) ও জিয়ারুল (৩৫)।
আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো শ্রমিক নিখোঁজ আছে কিনা তা জানা যায়নি।
শ্রমিকরা জানান, ওজোপাডিকোর উদ্যোগে কারবালা পাওয়ার স্টেশনের ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। সকালে ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন ৬০-৭০ জন শ্রমিক।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কাজ চলাকালে পশ্চিম পাশের ছাদ আকস্মিকভাবে ধ্বসে পড়ে। এতে ছাদের উপরে ও নিচে থাকা ৯ শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তারা আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপর পুলিশ ও পৌরসভার সহযোগিতায় উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুপুর তিনটা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে কোনো শ্রমিককে পাওয়া যায়নি।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন, এ ঘটনায় ১০ শ্রমিককে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক কেউ নেই।
এদিকে, নির্মাণকাজের সাথে জড়িত শাজাহান আলী নামে এক ঠিকাদার বলেন, এ ধরনের ছাদ ঢালাইয়ের জন্য সেন্টারিংয়ের কাজটি বাঁশের পরিবর্তে লোহার পাইপ দিয়ে করলে বেশি ভালো হতো। ২৭ ফুট উচ্চতায় ছাদ ঢালাই করলে বাঁশের সেন্টারিং সেটে ধরে রাখতে পারে না। এ কাজে যে ইঞ্জিনিয়ার নিয়োজিত তার বিষয়টি দেখে নেয়া উচিত ছিল।
আরও পড়ুন: আন্দোলনে বন্ধ সিরাজগঞ্জের ইপিজেড কার্যক্রম
যশোর পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার এস এম কামাল আহমেদ বলেন, এত ভারী নির্মাণ কাজ লোহার পাইপ দিয়ে সেন্টারিং করা প্রয়োজন ছিল। আরও একটু সতর্ক হলে এ দুর্ঘটনাটা ঘটতো না। এ ধরনের নির্মাণকাজে বাড়তি সতর্কতা সব সময় প্রয়োজন।
ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল ইলেকট্রিক ৩৩ কেভির এই পাওয়ার স্টেশনটি নির্মাণ করছে।
একাত্তর/এসজে
