ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মিলবে যেসব সুবিধা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩, ০৫:২৩ পিএম

রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। এটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও হয়ে মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী এলাকায় গিয়ে শেষ হবে এই প্রকল্প।

যানজট নিরসনে নেয়া সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পের সংযোগ সড়কসহ দৈর্ঘ্য ৪৬.৭৩ কিলোমিটার। এক্সপ্রেসওয়েটিতে ১১টি টোল প্লাজা থাকবে। যার পাঁচটিই এক্সপ্রেসওয়ের উপরে। এর উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকার উত্তর-দক্ষিণে বিকল্প সড়ক হিসেবে কাজ করবে।

সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে (পিপিপি) তিন ধাপে উড়াল সড়ক প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে বনানী রেলস্টেশন পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপ বনানী রেলস্টেশন থেকে মগবাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত। তৃতীয় ধাপ মগবাজার রেলক্রসিং থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত।

উড়াল সড়কের রুট হচ্ছে—কাওলা, কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত। পুরো পথই রেললাইন ঘেঁষে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। পুরো প্রকল্প শেষ হলে রাজধানীকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের (কুতুবখালী) সঙ্গে যুক্ত করবে এক্সপ্রেসওয়েটি।

image


মহাসড়কে চলাচলে নানা বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত হয়ে বিরামহীনভাবে যান চলাচলের সুযোগ করে দিকেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধারণা। 

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের মহাসড়কগুলো একটানা চলাচলের উপযোগ নয়। রয়েছে অসংখ্য মোড় আর হাটবাজার ও দখলদারিত্ব। 

এসব থেকে পরিত্রাণ পেতেই দেশের কয়েকটি মহাসড়কে করা হবে এক্সপ্রেসওয়ে। এর প্রথমটি ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। তবে এটি মাটির ওপর নির্মিত। এমন সড়ক যখন মাটি থেকে উপরে পিলারের উপর নির্মিত হবে, তখন সেটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বলা হবে।

এক্সপ্রেসওয়েতে সব ধরনের যানবাহন চলবে না, দ্রুতগতির যানবাহন চলবে। এসব যানবাহন কোথাও থামবে না। থামলেও ব্যবহার করতে হবে একটি নির্দিষ্ট লেন, যা মূল এক্সপ্রেসওয়ের বাইরে। এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলবে একটি নির্দিষ্ট গতিতে।

এক্সপ্রেসওয়ের সুবিধা নিতে যানবাহন কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টোল। আর এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী যানবাহন গন্তব্যে পৌঁছে যাবে অন্য যানবাহনের তুলনায় কম সময়ে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের যানজট অনেকাংশে কমে যাবে এবং ভ্রমণের সময় ও খরচ কমে যাবে। সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজিকরণ, আধুনিকায়ন হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দক্ষিণ পাশ থেকে বনানী রেলস্টেশন পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটারের প্রথম অংশের কাজ শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে মূল কাজ শেষ হয়েছে। অগ্রগতি ৯৩ শতাংশ, শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। রাস্তার বাতি বসানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে রেলিং বসানোর কাজও চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাওলা থেকে বনানী অংশ পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে।

ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে দিতে হবে টোল

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প থেকে বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ তুলবে যানবাহন থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে। এজন্য তারা আলাদা টোল প্লাজা স্থাপন করা হচ্ছে। এই এক্সপ্রেসওয়ের জন্য সর্বনিম্ন টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। প্রাইভেট কার, জিপ, মাইক্রোবাস, ট্যাক্সির মতো হালকা শ্রেণীর যানবাহনের জন্য টোলের এ হার ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ৬২৫ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে বড় ট্রাকের (ছয় চাকার বেশি) জন্য।

image


এক্সপ্রেসওয়েটিতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। মোটর সাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো দুই ও তিন চাকার কোনো যানবাহন এই উড়াল সড়কে চলতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলের জন্য যানবাহনের চারটি শ্রেণী নির্ধারণ করা হয়েছে, যার প্রথমটি হালকা যানবাহন। এ শ্রেণীর যানবাহনের জন্য সর্বনিম্ন টোল ১০০ টাকা। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার পর শেষ পর্যন্ত না গেলে হালকা শ্রেণীর যানবাহন থেকে এ পরিমাণ টোল আদায় করা হবে।

অন্যদিকে, এক্সপ্রেসওয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হালকা যান থেকে টোল আদায় করা হবে ১২৫ টাকা। হালকা শ্রেণীর যানবাহনকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায়ের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। এ ভিত্তি টোলের দ্বিগুণ আদায় করা হবে বাস থেকে। এ হিসাবে এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশ ব্যবহারের জন্য বাসের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। আর পুরো এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে চাইলে গুনতে হবে ২৫০ টাকা।

আরও পড়ুন: উড়াল সড়কের বিমানবন্দর-ফার্মগেট অংশ খুলছে সেপ্টেম্বরে

একইভাবে ভিত্তি টোলের চার গুণ নির্ধারণ করা হয়েছে মাঝারি (ছয় চাকা পর্যন্ত) আকারের ট্রাকের জন্য। এ হিসাবে এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশ ব্যবহার করলে ৪০০ টাকা এবং পুরো অংশ ব্যবহার করলে মাঝারি ট্রাক থেকে টোল আদায় করা হবে ৫০০ টাকা।

আর বড় ট্রাকের জন্য (ছয় চাকার বেশি) টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ভিত্তি টোলের পাঁচ গুণ। সেই হিসাবে কিছু অংশ ব্যবহারের জন্য ৫০০ টাকা; পুরো এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের জন্য ৬২৫ টাকা টোল আদায় করা হবে বড় ট্রাক থেকে। বিনিয়োগকারীরা এ অবকাঠামো থেকে সাড়ে ২১ বছর টোল আদায় করবে।


একাত্তর/আরএ

নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে আকিজ কলেজ অব হোম ইকোনমিক্স।
“সুদৃঢ় অভ্যাস, শক্তিশালী লিভার” এই স্লোগানকে ধারণ করে ১৯শে এপ্রিল বিশ্ব লিভার দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে মিনার্ভা হাসপাতাল লিমিটেড।
রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত অরোরা স্কিন অ্যান্ড এয়েস্থেটিকস-এ ‘ডার্মাটোলজি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত “ফান্ডামেন্টাল ট্রেনিং অন ডার্মাটোলজি” কোর্সের ২৫তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত...
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজধানীর গুলশানে ইএমকে সেন্টারে আয়োজিত ‘সিলেক্টইউএসএ ২০২৬ টেক পিচ’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর