নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপ নিয়ে নানামুখী আলোচনার মধ্যে দেশের প্রবীণ রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন সরকারকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় দলটির সভাপতি কামাল হোসেন এ আহবান জানান।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় গণফোরাম সভাপতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার স্বার্থে অবিলম্বে সকল রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, সংবিধানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তার ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকার গঠন করতে চায়। অথচ জনগণের এই মৌলিক ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজ সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
ড. কামাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মহান স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারষ্পরিক দ্বন্দ্ব সংঘাত ও অবিশ্বাস আজ মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে বিপন্ন করে তুলছে এবং সরকারের সীমাহীন দমন পীড়নের ফলে দেশ আজ চরম সংকটে। ফলে বিদেশি রাষ্ট্রগুলি আমাদের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ পেয়েছে। যার ফলে জাতি হিসাবে আমরা লজ্জিত।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক কর্মকর্তার বাংলাদেশ সফরের পরদিনই কামাল হোসেনের সংলাপের আহবান এলো। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন কামাল হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে সংলাপ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
ওই সংলাপের সময়ও সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানায় কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। তাদের দাবি আমলে না নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা দলগুলো। ওই নির্বাচনে বিএনপি সাতটি এবং গণফোরাম দুটি আসন পায়। পরে গণফোরামের সুলতান মনসুরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে এই সংলাপ যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে সম্পৃক্ত থাকতে চায় না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
গণফোরামের সভাপতি পরিষদের সদস্য তাদের সভার বিষয়ে একাত্তর অনলাইনকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রধান দুই দলের যে মুখোমুখি অবস্থান, সেটা থেকে মুক্তির জন্য সংলাপই একমাত্র পথ। আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন সেই আহবানই জানিয়েছেন। অবশ্যই সরকারকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।’
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনকালীন সরকার: কাদের
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান, সভাপতি পরিষদ সদস্য মোকাব্বির খান, মফিজুল ইসলাম খান, আলতাফ হোসেন, এ আর জাহাঙ্গীর, মোশতাক আহম্মেদ, শাহ নুরুজ্জামান।
একাত্তর/কেএসএইচ
