স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইনে নেই এমন কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ ও ইনজেকশন ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যবহার করছে কয়েকটি বেসরকারি হাসাপাতাল। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা।
তারা বলছেন, ক্যান্সার ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের প্লাটিলেট বাড়ানোর ওষুধ এখানে ব্যবহার হচ্ছে যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসনের নজরদারির তাগিদও দিচ্ছেন তারা।
বীকন ফার্মার এলট্রোম বোপাগ গ্রুপের ইটিপি ৫০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট মূলত ক্যান্সার ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত জটিল রোগীদের প্লাটিলেট বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। রোগীর অবস্থা বুঝে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই ওষুধের পরামর্শ দেন। কিন্তু রাজধানীতে হঠাৎ করেই ওষুধটির ব্যবহার ও দাম দুটোই বেড়েছে। আগে সাতটি ট্যাবলেটের এক পাতা বিক্রি হতো চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয় হাজার টাকায়।
কারিকা পাপায়া লিফ্ট এক্সট্রাক্ট গ্রুপের পাপায়া নামের ওষুধটির বিক্রিও ব্যপক বেড়েছে। অনেকের বিশ্বাস এটি প্লাটিলেট বাড়ায়। যদিও এই দাবি প্রমাণিত নয়। বেড়েছে দামি কিছু ইনজেকশানের ব্যবহারও।
ডেঙ্গু চিকিৎসার যে গাইড লাইন ঠিক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেখানে রোগীদের এসব ওষুধ দেয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। কিন্তু ওষুধ কোম্পনীর কমিশনের লোভে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কিছু চিকিৎসক রোগীদের গণহারে এসব ওষুধ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ক্যান্সার রোগীদের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ কোনোভাবেই ডেঙ্গু চিকিৎসায় অনুমোদিত নয়। এটিকে অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ বলছেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন: ‘ভারত মনে করছে, শেখ হাসিনাই সরকার গঠন করবে’
শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক বলেন, পেঁপে পাতার জুস হোক বা এলট্রম্বোপ্যাগ যে ওষুধগুলো আমরা ব্যবহার করছি, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সেগুলো এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। গাইড লাইন অনুসরণ করেই ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত। এর আবিরে অনেক ধরণের ঝুঁকি রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইড লাইনের বাইরে ডেঙ্গু রোগীদের অনুমোদনহীন ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২৪ ঘণ্টায় বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। বুধবারও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে।
এদিকে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৯৫৯ জন রোগী। যা বছরের সর্বোচ্চ। আগের দিন একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৮৪৪।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ২৮ জনে। চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৭৪ জন।
ডেঙ্গুতে সবচেয়ে প্রাণহানি ঘটেছে চলতি বছর। এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২৮১ জন।
একাত্তর/আরবিএস
