কক্সবাজার-২ আসনে আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি থেকে জয়ী হতে হলে প্রার্থীকে প্রথমেই নিজের দলের মধ্যে মনোনয়নের লড়াইয়ে নামতে হবে। কারণ দু'দলেই রয়েছে একাধিক যোগ্য প্রার্থী। আর সে কারণে এই এলাকায় সব দলেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলও প্রকট। পাশাপাশি জয়-পরাজয় নির্ধারণের মতো ভোট রয়েছে জামায়াতেরও।
সমুদ্রে ঘেরা অপূর্ব সুন্দর দ্বীপ কুতুবদিয়া। কিন্তু সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এই দ্বীপে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কোন উপায় ছিলো না। বিদ্যুতের উৎস বলতে ছিলো কেবল উচ্চমূল্যের জেনারেটর আর সৌরশক্তি। বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রও অনেক দিন ধরে নষ্ট।
সেই যুগ পেরিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে গেলো এপ্রিলে প্রথমবারের মতো বিদ্যুত আর ইন্টারনেট পেলো কুতুবদিয়াবাসী। এখানে শুটকি আর লবণের চাষ চলে পাশাপাশি। যার সাথে বাধা অনেক মানুষের জীবন। এবার লবনের ভাল দামও মিলেছে।
এখানকার জনগোষ্ঠির একটা বড় অংশের জীবন কাটে সমুদ্রে মাছ ধরে। কিন্তু সূর্য ডুবতে না ডুবতেই জলদস্যুদের আতঙ্কে ভোগে জেলেরা। বেড়িবাধের অভাবে ক্রমশ ছোট হচ্ছে কুতুবদিয়ার সীমানা। সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।
মহেশখালীর পানের সুনাম দেশের ঐতিহ্যের অংশ। দামও মিলছে ভাল। তবে কক্সবাজারে দ্রুত পান পাঠাতে একটি সংযোগ সেতুর দাবি মহেশখালীবাসীর। আদিনাথ মন্দির ও রাখাইন বৌদ্ধ মন্দিরের মত দারুণ সব পর্যটন সম্ভাবনাও আছে এখানে। কিন্তু প্যারাবন আর পাহাড় ধ্বংস নিয়ে অভিযোগ আছে মানুষের।
মাতারবাড়িতে রয়েছে এলএনজি টার্মিনাল এবং দেশের সবচেয়ে বড় কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, পাঁচটি অর্থনৈতিক জোন, মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্প, মহেশখালী ট্যুরিজম পার্কসহ অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে এখানে।
তাই গুরুত্ব বাড়ছে কুতুবদিয়ায় ১,০০৫৮৫ জন এবং মহেশখালীর ২,৬১,৭৮৬ জন ভোটারের।
বিএনপি জামায়াতের প্রভাব এলাকাটিতে খানিকটা বেশি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের পথে বাধা জেলা রাজনীতির গ্রুপিং আর সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের সাথে শীতল যুদ্ধ।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে, বহু চ্যালেঞ্জে বিএনপি
গেলো নির্বাচনে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদকে প্রথমে বিএনপি মনোনয়ন দিলেও পরে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় জামায়াত প্রার্থী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদকে। এরপর আলমগীর ফরিদ হাইকোর্টের রায় নিয়ে ধানের শীষ ফিরে পেলেও হেরে যান। ফরিদের সাথে দ্বন্ধের সুযোগ নিয়ে বিএনপির একটি অংশ সালাউদ্দিনকেই প্রার্থী করতে চায়।
জামায়াত অবশ্য আগেই একবারের সংসদ সদস্য ও গেলোবার জামানত হারানো হামিদুর রহমান আযাদকেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। একবার মনোনায়ন পেয়েও পরাজিত আওয়ামী প্রার্থী পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনসারুল করিমও চান মনোনায়ন।
আওয়ামী লীগের মনোনায়ন চান বর্তমান সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকও। জানান সুপার ডাইক বাঁধ নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও। তার মূল লড়াই আপন চাচা দুবার জয়ী বিএনপি প্রার্থী আলমগীর ফরিদ ও একবার জয়ী জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদের সাথে। চাচা ভাতিজার ভোট ভাগ আর দল সামলাতে পারলে মেগা উন্নয়ন, বিদ্যুত আর পান ও লবণের দাম নিয়ে জনগনের সন্তুষ্টির সুবিধা পাবেন তিনি। গতবার এই আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহসহ বাকি দলগুলোর আট প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
একাত্তর/আরবিএস
