মেসিই যেন শেষ সম্বল! আবারো তাই প্রমাণ হলো ইকুয়েডর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শেষ চারের লড়াইয়ে। তিন গোলে জয় পাওয়া নীল-সাদা জার্সিধারীদের তিনটি গোলের মধ্যে দু’টি গোলই এসেছে মেসির পাস থেকে।
গোইয়ানিয়ার অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে কোয়ার্টার-ফাইনালে ৩-০ গোলে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রদ্রিগো দে পল দলকে এগিয়ে নেয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ান মেসি ও লাউতারো মার্তিনেস।
এই জয়ে টানা চতুর্থবারের মতো শেষ চারে গেল আর্জেন্টিনা। এক আসর পর ফাইনালে যেতে এদিনই আরেক কোয়ার্টার-ফাইনালে টাইব্রেকারে উরুগুয়েকে হারানো কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা।
খেলার ৪০তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ডি বক্সের বাইরে এসে নিকোলাস গনসালেসকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন একুয়েডর গোলরক্ষক। আলগা বল ধরে মেসি খুঁজে নেন অরক্ষিত দে পলকে। দেখে শুনে বুলেট গতির শটে বাকিটা সারেন এই মিডফিল্ডার। দেশের হয়ে এটাই তার প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক শুরু করে একুয়েডর। ৫৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন ভালেন্সিয়া। খুব কাছ থেকে তার শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

৬৪তম মিনিটে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড গনসালেসের ফ্লিক একটুর জন্য নিজেদের জালে যায়নি। ৭০তম মিনিটে কর্নার থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি অরক্ষিত ভালেন্সিয়া। ৭৪তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে মেসির শট বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
আরও পড়ুন: সেমিতে দুই পুরনো শত্রু, অনেক হিসাব বুঝে নেয়ার পালা!
আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে উঠা ম্যাচে ৮৪তম একুয়েডর ডিফেন্ডারের মারাত্মক ভুলে ব্যবধান বাড়ায় আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষকের কাছ থেকে বল পেয়ে আনহেল দি মারিয়া পিয়েরো হিনকাপেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। আলগা বলে মেসির চমৎকার পাসে জাল খুঁজে নেন মার্তিনেস।
যোগ করা সময়ে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ এক ফ্রি কিকে বল জালে পাঠান মেসি। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের। চলতি আসরে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের একটি চতুর্থ গোল, ফ্রি কিক থেকে দ্বিতীয়।
কোপার অপর কোয়ার্টার ফাইনালে রীতিমতো অঘটন ঘটিয়েছে কলম্বিয়া। সুয়ারেজের উরুগুয়েকে ট্রাইবেকারে হারিয়ে দেয় তারা। ফলে সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হতে চলেছেন মেসিরা। আর কোনও অঘটন না ঘটলে ফাইনালে দেখা যেতে পারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাকে। আপাতত সেই দিকেই তাকিয়ে ফুটবল বিশ্ব।
একাত্তর/আরএ
