জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) সমস্যাগুলো সাতদিনের মধ্যে সমাধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমস্যার সমাধান করে ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সিকে (ডিএসএ) প্রতিবেদন পাঠানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে এক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ৭ জুলাই রাতে সরকারি একটি ওয়েব সাইট থেকে লাখ লাখ বাংলাদেশির নাগরিক তথ্য ফাঁস হওয়ারর খবর পাওয়া যায়।
পরদিন জানা যায়, আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটের তথ্য আছে ঝুঁকিতে। মূল কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি করা হয়। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকেও তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে জানায় তদন্ত কমিটি।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এর আগে ঘোষিত ৩৪টি ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফাস্ট্রাকচারের (সিআইআই) নেওয়া কার্যক্রম বিষয়ে এই পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোগুলোর বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা ইস্যু, সিআইআই প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল কাঠামো, আইসিটি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, নিয়মিত আইটি অডিট কার্যক্রম সম্পাদন, সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) ও নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) সমস্যাগুলো সাত দিনের মধ্যে সমাধান করে ডিএসএকে প্রতিবেদন দিতে হবে। যেনো অক্টোবর মাসের এর শুরু থেকেই ওয়েবসাইটটি পুরোদমে সক্রিয় হয়।
এছাড়া, সিআইআই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অংশগ্রহণে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ সভা আয়োজন করার সিদ্ধন্ত হয়। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইসিটি বিভাগের ডিএসএ (এনসার্ট) হতে মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি পাঠানো, প্রতিটি সিআইআইতে সাইবার সিকিউরিটি ডিজাইন ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ডিএসএ (এনসার্ট) থেকে সাইবার সিকিউরিটি ডিজাইন ল্যাব (সিএসডিএল) গঠনের কারিগরি দিক নির্দেশনা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সকল সিআইআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহিত করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া সভায়, সিআইআই গাইডলাইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি আগামী সাত কার্যবিদসের মধ্যে ডিএসএকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিআইআইএর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএসএ কীভাবে সহায়তা করতে পারে এবং তাদের কোনো দুর্বলতা থাকলে সেটি ডিএসএকে জানানো, সকল সিআইআই প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল জনবল বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া, সিআইআইগুলোর টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং সেই সাথে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে বলে সভায় পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার, ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, বিজিডি ই-গভ সার্ট এর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলম খানসহ ৩৪টি সিআইআই এর প্রতিনিধি/ফোকাল পয়েন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
