সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় রূপপুর পৌঁছালো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল্যবান জ্বালানি ইউরোনিয়াম। বৃহস্পতিবার রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রথম এই চালান শুক্রবার ভোরে পাবনার রূপপুর রওনা হয় জ্বালানিবাহী কাভার্ডভ্যান। বেলা সোয়া একটার দিকে সেটি গন্তব্যে পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগের পথে আরেক ধাপ আগালো বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাশিয়ার নভোসিবিরিস্কে প্রস্তুত হয়েছে দেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ইউরোনিয়াম। শুক্রবার এ জ্বালানি আসার সময় দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-পাবনা রুপে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
বেলা একটার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী কাভার্ড ভ্যানগুলো রূপপুরে পৌঁছায়। যা নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি ছিলোনা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এর মধ্য দিয়ে পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। আগামী বছরই এখান থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।

তিনি বলেন, কম খরচে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। তাই সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতে রূপপুরের এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে।
ক্লিন এনার্জি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সেটি পূরণেও রূপপুরের এই প্রকল্প অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে গত আট আগস্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান আনতে সাইবেরিয়ায় অবস্থিত ইউরেনিয়াম প্লান্টে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
পাবনার রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রাশিয়ার সহায়তায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন।
২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিট মিলিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। আগামী বছর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে হবে রূপপুরে।

এর আগে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা মোতাবেক কাজ এগিয়ে নেওয়ায় পারমাণবিক জ্বালানি পাওয়ার সব ধাপ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
আইএইএর নির্দেশনা অনুযায়ী শর্ত পূরণ করায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে (বিএইসি) পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি ও সংরক্ষণের লাইসেন্স দেয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে রুশ প্রতিষ্ঠান বাররুস প্রজেক্ট এলসিসিকে।
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের চুল্লির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
২০২৪ সালে উৎপাদনে যাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র