আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচনে সব আসনেই প্রার্থী দিতে চেয়েছে দলটি।
বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি অংশ নেবে, তবে নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। আমরা জ্বালাও পোড়াও রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। সুষ্ঠু রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা হত্যার রাজনীতি সহিংসতাকে সমর্থন করি না। সুষ্ঠু রাজনীতি হবে সুশানসের ভিত্তি। নির্বাচনে কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা অক্ষরে অক্ষের পালন করবে এটা আমাদের দাবি।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল বিএনপি মানে সাধারণ মানুষের বিএনপি। দেশের খেটে খাওয়া মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়। আজ দেখছি আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা আন্দোলন করছে কারণ দ্রব্যমূল্য যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তারা যে বেতন পায় তাতে দু’বেলা খাবার জোটাতে পারে না। আমরা দাবি করছি তারা যেন তাদের ন্যায্য বেতন পায়।
গত ফেব্রুয়ারিতে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীক পেয়ে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার তিনদিন পর তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল হুদা মারা যান। এরপর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা হুদা। পরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দলটিতে যোগ দিয়েই চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন শমসের মবিন চৌধুরী এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান তৈমূর আলম খন্দকার।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, তৃণমূল বিএনপির প্রত্যেক সদস্য হবে নেতা। এমন একটা সমাজব্যবস্থা, সুস্থ রাজনীতি প্রশাসন হবে জনমুখী। যারা রাজনীতি করে তারা গাড়ি পোড়ায় না।
তিনি বলেন, তৃণমূল বিএনপি লিমিটেড কোম্পানি হবে না, তৃণমূল বিএনপি হবে ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের মতো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তৃণমূল বিএনপির নির্বাহী চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদা, তৃণমূল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন মেজর (অব.) ডা. শেখ হাবিবুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন ও মিডিয়া উইং চিফ সালাম মাহমুদ।
সঞ্চালনা করেন তৃণমূল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. আক্কাস আলী খান। সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল বিএনপির কো-চেয়ারপারসন কে এ জাহাঙ্গীর মাজমাদার।
এর আগে সারাদেশ থেকে রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত ৩৫ জন তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান করেন। এর মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও শিক্ষক, আইনজীবী রয়েছেন।
নাজমুল হুদা তৃণমূল বিএনপি গঠন করেন ২০১৫ সালের শেষ দিকে। তার আগে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার পর আরও তিনটি দল গঠন করেছিলেন।
২০১২ সালে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)’ নামে একটি দল গঠন করেন তিনি। পরে সেই দল থেকে তাকে বহিষ্কার করেন দলটির প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।
নাজমুল হুদা ২০১৪ সালের ৭ মে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জোট’ নামে একটি জোট গঠন করেন। একই বছরের ২১ নভেম্বর তিনি ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি’ নামে একটি দল গঠন করেন। আরও একটি নতুন দল গঠন করেছিলেন এ রাজনীতিক।
নাজমুল হুদা সবশেষ ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন করেন ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে দলটি।
সে সময় নিবন্ধন না পাওয়ায় আইনি লড়াইয়ে যায় তৃণমূল বিএনপি। পরে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধন দেয়।
২০১৫ সালে শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপি থেকে পদত্যাগের পর ২০১৮ সালে বিকল্পধারায় যোগ দেন। নির্বাচনের আগে বিকল্পধারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই সময় জোটের মনোনয়ন না পেয়ে সিলেট-৬ আসনে বিকল্পধারার কুলা প্রতীকে নির্বাচনের মাঠে নামলেও পরে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে মহাজোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানান শমসের মবিন।
তৈমূর আলম খন্দকার ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সক্রিয় ছিলেন। এ জন্য মামলা-হামলার শিকার, এমনকি জেলেও থাকতে হয়েছে তাকে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে দেড় বছর আগে দল থেকে বহিষ্কার হন তৈমূর। এরপরেও তিনি বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদনও করেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি তার সাবেক দল।
দেশকে অকার্যকর করতে বিএনপি সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৮ তারিখে নাশকতার দায় স্বীকার করেছে বিএনপি নেতারা: ডিবি