দিনাজপুরে 'মহারাজা স্কুল ট্রাজেডি' স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তৈরি স্মৃতিস্তম্ভটি ভাঙায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় মানুষ। ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কয়েকজন দুর্বৃত্ত স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে ফেলে। তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। কেউ মুখ খুলতেও রাজি হয়নি।
এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল হক ছুটু।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী কালে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রাজেডি ছিল 'মহারাজা স্কুল ট্রাজেডি'। ১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারি দিনাজপুরের বুকে ঘটে যায় হৃদয় বিদারক ঘটনা। এদিন দিনাজপুর জেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে শহরের মহারাজা স্কুল মাঠের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয় মাইনসহ অসখ্য গোলাবারুদ। ট্রাক থেকে একটি মাইন নামাতে গিয়ে হাত থেকে পড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শহীদ হন পাঁচ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।
আরও পড়ুন: ৭১ টিভিতে সংবাদ প্রচারের পর রাস্তা পেলেন সেই বৃদ্ধ
সেদিন থেকে দিনটিকে 'মহারাজা স্কুল ট্রাজেডি' হিসেবে পালন করে আসছেন স্থানীয়রা। এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় দিনাজপুর মহারাজা স্কুল প্রাঙ্গণে। ২০০০ সালের ৬ই জানুয়ারি স্মৃতিসৌধটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আ ল ম ফজলুল হক।
একাত্তর/আরবিএস
