দেশের সব এলাকার পোশাক কারখানায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।
বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার কোনো কারখানায় শ্রম অসেন্তোষের সংবাদ পাওয়া যায়নি। সব কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন চলছে। আশুলিয়া এলাকার বন্ধ পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকরা কাজে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করায় বুধবার আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মিরপুরের বন্ধ কারখানাগুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে ১৪ নভেম্বর ও ১৫ নভেম্বর আলোচনা হয়েছে। দু’দিনের আলোচনায় শ্রমিকরা কারখানায় কাজে ফিরতে চান। বৃহস্পতিবার থেকে মিরপুরের এবং অন্য সব জায়গার বন্ধ হওয়া পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, আমরা প্রত্যেক উদ্যোক্তা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর প্রতি অনুরোধ, পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা দিন। এলাকায় সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করুন, সর্বোপরি জানমালের নিরাপত্তায় কঠোর পদক্ষেপ নিন।
একইসাথে শ্রমিক, কর্মচারী ও মালিকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থেকে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে গত রোববার পোশাকশিল্প কারখানায় কর্মচারী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কারখানার সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে ১৩০টি পোশাক কারখানার সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘোষণার তিনদিনের মাথায় সব কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এলো।
সরকার ঘোষিত সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখ্যান করে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা।
রবিবার (১২ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর ১৩ নম্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এসময় মিরপুর ১৩, ১৪ ও ১০ নম্বরে যান চলাচল বাধা সৃষ্টি হয়। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে রাখলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
