ইউরো ফুটবলে পরাশক্তি ইংল্যান্ড। ওদের মাঠেই সেমিফাইনালের মহারণে চোখে চোখ রেখে, দাঁতে দাঁত চেপে লড়েছে রুপকথার গল্প লিখে চলা ডেনমার্ক। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ে, শেষ পর্যন্ত তাদের হার মানতে হলো রেফারির এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কাছে। ফলাফল, ২-১ গোলের জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইংল্যান্ড। আর তাতে ইংলিশদের মিটলো ৫৫ বছরের আক্ষেপ।
ঘড়ির কাটা তখন ১০০ মিনিট পেরিয়ে গেছে, স্কোরলাইন তখনো ১-১। ডেনমার্ক ডি-বক্সের ভেতর আছড়ে পড়লেন ইংল্যান্ডের ম্যানসিটি স্ট্রাইকার রহিম স্টার্লিং। তাতেই পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে দিলেন নেদারল্যান্ডসের রেফারি ড্যানি ডেসমন্ড। ভিএয়ার চেকের পরও বদলায়নি সেই সিদ্ধান্ত। তবে এটা আদৌ পেনাল্টি হয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
হ্যারি কেইনের স্পট কিকটাও রুখে দিয়েছিলেন পুরো ম্যাচে দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে ওঠা ডেনিশ গোলকিপার ক্যাসপার স্মাইকেল। কিন্তু ফিরতি সুযোগটা মিস করেননি কেইন। দিন শেষে রেফারির সেই পেনাল্টির বাঁশি ডেনিশ বেদনার সুর হয়ে ছড়িয়েছে ওয়েম্বলির এপার থেকে ওপারে। ওই এক বাঁশিই থামিয়ে দিয়েছে এরিকসেনের যোগানো সাহস বুকে নিয়ে রুপকথার গল্প লিখে চলা ডেনমার্ককে।
বুধবার ম্যাচের শুরুটাও হয়েছিল মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা এরিকসেনকে স্বরণ করেই। তবে একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে ডেনমার্ক। আধঘন্টা পেরোতেই অবশ্য ডি বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পেয়ে যায় তারা। মাপা শটে গোল করে ডেডকল ভাঙেন মিকেল ড্যামসগার্ড। ফ্রি কিক থেকে এবারের ইউরোতে এটাই প্রথম গোল, এই আসরে ইংলিশদের হজম করা প্রথম গোলও এটিই। তার আগেই অবশ্য ইংল্যান্ডের গোলকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ৭২০ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ডটা ভেঙে ফেলেন জর্ডান পিকফোর্ড, পেছনে ফেলেছেন কিংবদন্তি গর্ডন ব্যাংঙ্কসকে।
লিডটা অবশ্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি ডেনমার্ক। কেইনের থ্রু পাস থেকে স্টার্লিংয়ের উদ্দেশে ক্রস করেছিলেন রাইট উইঙ্গার বুকায়ো সাকা। সেটি ব্লক করতে গিয়ে উল্টো জালে বল ঢুকিয়ে দেন ডেনমার্ক ক্যাপ্টেন সিমোন কেয়া। টুর্নামেন্টে এটি ১১ নাম্বার আত্মঘাতি গোল। আর এ দিয়েই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, কেইনের গোলে প্রথমবারের মতো ইউরোর ফাইনালে ওঠে ইংলিশরা। শুধু তাই নয়, ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল বাধা টপকাতে পারলো ইংল্যান্ড। যেভাবেই হোক, মিটেছে ওদের ৫৫ বছরের আক্ষেপ। রোববারের ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ফুটবলকে ঘরে ফিরিয়ে আনার মিশন তাই ইংলিশদের।
একাত্তর/আরএইচ
