রাজধানীর তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দিয়েছে নাশকতাকারীরা। এ ঘটনায় একটি বগি থেকে মা-শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
পরিচয় পাওয়া দুইজন হলেন- নাদিরা আক্তার পপি (৩৫) এবং তার তিন বছরের শিশু সন্তান ইয়াসিন। নাদিরা নেত্রকোনার সদর উপজেলার বরুনা গ্রামের মিজানুর রহমানের (মিজন) স্ত্রী। একই জেলার পূর্বধলা উপজেলার আলমপুর গ্রামের ফজলুল রহমানের মেয়ে তিনি।
শিশু ইয়াসিনের চাচা হারুন অর রশিদ বলেন, ৩ ডিসেম্বর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল তারা। মিজন কারওয়ান বাজারে হার্ডওয়্যার দোকানে কাজ করেন। ঢাকার তেজগাঁওয়ের পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তারা। দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বেড়ানো শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন নাদিরা। তাদের সাথে ছিলেন ইয়াসিনের মামা হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই ফাহিম (৮)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহামেদ বিশ্বাস বলেন, চার মরদেহের মধ্যে দু'জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। নিহত অপর দুইজন পুরুষ। তাদের বয়স আনুমানিক ৪০ বছর।
তিনি আরও বলেন, আইনি প্রকৃয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। প্রয়োজনে তাদের ডিএনএ-র প্রোফাইলিং এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এসময় ট্রেনটিতে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনের তিনটি বগিতে। এসময় যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। পরে ট্রেনটি তেজগাঁও স্টেশনে থামানো হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার হোসেন জানান, নাশকতার কারণে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তেজগাঁওয়ে ট্রেনে আগুন, চারজনের মরদেহ উদ্ধার