ইয়েমেনের ন্যাশনাল স্যালভেশন সরকার সমর্থিত দেশটির সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আগ্রহী এবং প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি আনসারুল্লাহ আন্দোলন।
শুক্রবার হুতি আনসারুল্লাহর পলিটব্যুরোর সদস্য মুহাম্মাদ আল বুখাইতি এই ঘোষণা দেন। খবর প্রেসটিভির।
এ হুতি নেতা বলেন, শত্রুদের জন্য আমাদের বার্তা হচ্ছে, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য অপেক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী নৈতিক দিক থেকে বিজয়ী হয়েছে। শত্রুরা ইয়েমেনের ওপর হামলা চালালে সেই যুদ্ধেও সানা বিজয়ী হবে।
যদি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইয়েমেনে হামলা চালায় তাহলে সরাসরি তাদেরকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে, এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করি এই সিদ্ধান্তের ভয়াবহতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক আছে।

এর আগে সাগরে ইসরাইলি জাহাজে হামলা ঠেকাতে চলতি মাসে জো বাইডেনের প্রশাসন হুতি বিরোধী নতুন সামরিক জোটের ঘোষণা দেয়। প্রায় দেড়শ’ দেশকে আমন্ত্রণ জানালেও শেষ পর্যন্ত সেই জোটে যোগ দিতে রাজি হয় মাত্র দশ দেশ। ইসরাইলি জাহাজকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সেই যৌথ টাস্কফোর্স ছেড়ে এরইমধ্যে চলে গেছে ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালি। এই ঘটনাকে মার্কিন-ইসরাইল অক্ষের জন্য বড় রকমের ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
লোহিত সাগরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সে যোগ দেয়ার প্রস্তাব আরব ও মুসলিম দেশগুলোও প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে বুখাইতি বলেন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলি জাহাজ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক জোটে অংশগ্রহণ করেনি এবং এটি একটি ইতিবাচক বিষয়।
তিনি লোহিত সাগরে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধকে "প্রতিরক্ষামূলক" হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তবে এ বলেও সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ইয়েমেনের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে।
এর আগে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা ও সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজে হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ইসরাইল অভিমুখী যেকোনো দেশের জাহাজকেও টার্গেট করার ঘোষণা দেয়। গেলো ৮৫ দিনে একাধিক ইসরাইলি জাহাজ আটকসহ এসবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
গাজায় শত শত ক্রীড়াবিদকে হত্যা করেছে ইসরাইল