সরকার শুধু ডামি প্রার্থী ও দল নয়, নির্বাচনে ডামি ভোটারও রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
শুক্রবার সকালে গুলশানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মঈন খান বলেন, ডামি প্রার্থীর পর এবার ডামি ভোটার নিশ্চিতের পাঁয়তারা চলছে। সারা দেশে চলছে ভোটার উপস্থিতিতে হুমকি-ধামকি। ভাতাভোগী, সরকারি চাকরিজীবীদের ভোট নিশ্চিত করতে নানা ফন্দি আঁটা হচ্ছে। ছাত্রলীগ দিয়ে জাল ভোট দেয়ার মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ৭ই জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপিসহ ৬৩টি রাজনৈতিক দল ও সব শ্রেণী পেশার মানুষ বর্জন করেছে। এই নির্বাচন সরকারের দেউলিয়াত্বের প্রতীক। এক ব্যক্তির ইচ্ছায় এই নির্বাচন ও ফলাফল হতে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছে সরকার। গ্রামে-গঞ্জে ভোটারদের হুমকি দেয়া হচ্ছে, সরকারি ভাতা নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা বন্ধের হুমকি দেয়া হচ্ছে। ২০ লাখ সরকারি চাকরিজীবীদের পোষ্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। অথচ প্রবাসী বাংলাদেশীরা বহু বছর ধরে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়ার কথা বললেও বাস্তবায়ন হয়নি। আনসার ভিডিপি'র কর্মরতদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিবারসহ ভোট দিতে। সাধারণ ভোটারদের হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে।
‘সরকার কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করতে পারেন না। বিএনপি ভোট বর্জনের অনুরোধ করছে, বাধ্য নয়।‘
মঈন খান আরও বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি আহ্বান সরকারের হুমকি-ধামকিতে চিন্তিত হবেন না। যারা ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধ্য করতে চায় তাদের চিহ্নিত করুন। সরকারের সময় শেষ হয়ে এসেছে, তাই তাদের আর ভয় পাওয়ার কারণ নেই। যারা কারচুপির নির্বাচনে সহায়তা করছে তারা ভবিষ্যতে বিচারের আওতায় আসবে। সর্বজনীন ভোট বর্জনের মাধ্যমে চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিগগিরই বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পাবে।
সরকারের কোনো গালগল্প এবার কাজ করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। সরকারকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সরিয়ে দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা হবে। ৭ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগের জয় নয়, পরাজয়ের দিন হবে। সেদিন গণতন্ত্রের নতুন করে অপমৃত্যু হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনে বিভ্রান্তি ছড়াতে সরকার নিজেরা সহিংসতা করে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর অপকৌশল চালাচ্ছে। বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। সরকার জনগণের ভাগ্য, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন নিয়ে খেলা করছে। প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি আমরা।
তিনি আরও বলেন, ৭ই জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার দেশকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, নির্বাচনের নামে প্রহসন হচ্ছে, কার্যত কোনো নির্বাচন হচ্ছে না দেশে। বিএনপি হরতাল ডেকেছে প্রতিবাদ হিসেবে। সহিংসতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবে।
