ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ১২টি বিমান। এই বিমানগুলো দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার। পরিত্যক্ত বিমানগুলোকে অল্প সময়ের মধ্যেই নিলামে তোলা হবে বলে জানা গেছে। নিলামে ভালো দাম না পাওয়া গেলে বিমানগুলো কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসি বাংলার।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত বিমানবন্দরের পার্কিং ভাড়াসহ নানারকম বকেয়া রয়েছে এই বিমানগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠানের।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম তৌহিদুল আহসান এর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, এই মূহুর্তে মোট ১২টি এয়ারক্রাফট বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে ১০টি বিমান গত আট বছর ধরে কার্গো ভিলেজের জায়গা দখল করে আছে।
তৌহিদুল আহসান বলেন, এই বিমানগুলোর রেজিস্ট্রেশন আগেই বাতিল করেছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর থেকে তাদের উড়োজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তারা বিমান সরায়নি বা জবাবও দেয়নি।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের বড় অর্জন
বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও সংস্থাগুলো তাদের কাছে পাওনা অর্থ পরিশোধ করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, সিভিল এভিয়েশন আইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলাম আয়োজন করা হবে।
জানা যায়, কেবল বকেয়া আদায়ের জন্যই বিমানগুলো নিলামে তোলা হচ্ছে না বরং শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে চলমান তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের জন্য জায়গা বাড়ানোও একটি কারণ।
কার বিমান কয়টি? কার বকেয়া কতো?
বিমানবন্দরে এই মুহূর্তে যে ১২টি বিমান পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, তার মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সর্বাধিক আটটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুইটি, জিএমজি এয়ারলাইনস ও এভিয়েনা এয়ারলাইনসের একটি করে বিমান রয়েছে।
জানা যায়, এই ১২টি বিমানের পার্কিং চার্জ ও অন্যান্য চার্জবাবদ প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মতো বকেয়া রয়েছে।
এর মধ্যে সর্বাধিক ৩৬০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে জিএমজি এয়ারলাইনসের কাছে। রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে বকেয়া ২০০ কোটি টাকা, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে ১৯০ কোটি টাকা এবং এভিয়েনা এয়ারলাইনসের কাছে ৫০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মামলা
এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইনস ২০১২ সাল থেকে বিমান চলাচল বন্ধ করেছে, ২০১৬ সাল থেকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।
শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদুল জানান, ইতিমধ্যে নিলামের প্রক্রিয়া নির্ধারণে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিলামের কর্মপদ্ধতি ও সুপারিশমালাও চূড়ান্ত হয়েছে।
একাত্তর/আরএইচ
