নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও বন্দর উপজেলার দুইটি জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তিনটি শক্তিশালী বোমাসহ বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (১২ জুলাই) রাতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম এর সদস্য পরিদর্শক গোলাম মর্তুজা বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে দুই থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম একাত্তরকে বলেন, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট বাদী হয়ে মামলা দুইটি দায়ের করেছে। এই দুই মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নাঈমকে শোন অ্যারেষ্টের আবেদনের পর রিমান্ডে আনাসহ যাবতীয় আইনি পক্রিয়া পরিচালনা করবে জেলা পুলিশ।
এর আগে রোববার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জে পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে, মসজিদে ইমামতির আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে ছদ্মবেশে শক্তিশালী বোমা তৈরি, বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ এবং পুলিশকে টার্গেট করে নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে নব্য জেএমবির সামারিক বাহিনীর দুই সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মেজর উসামা ওরফে নাঈমকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দল।
রোববার রাতে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের নোয়াপাড়া এলাকার মিয়া বাড়িতে ও বন্দরের কাজিপাড়ায় পৃথক দুইটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের বড় অর্জন
সোয়াত ও বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের সদস্যরা জেলা পুলিশের সহযোগীতায় রাত সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে শক্তিশালী তিনটি আইইডি তাজা বোমা উদ্ধার করে নিরাপদ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা নিষ্ক্রিয় করে। এসময় ইমামের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ইমাম আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডেভিল কিলার ওরফে ওয়াকিলসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
রোববার রাতে অপর অভিযানে জেলার বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলকার আহলে হাদীস মসজিদের ইমাম মেজর ওসামা ওরফে নাঈমের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি ও জঙ্গিবাদী বই উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
একাত্তর/আরএইচ
