কাজী হাসিবুর রহমান হিমেল থাকতেন উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে আর পড়াশোনা করতেন আইইউবিএটিতে। ডিসেম্বরের ২৬ তারিখ পারিবারিক ব্যবসার প্রয়োজনে ড্রাইভার সামিদুলকে নিয়ে উত্তরার বাসা থেকে শেরপুর জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন হিমেল।
সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে হিমেলের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিয়ে বন্ধ পায় তার মা। অনেক খোঁজাখুঁজি করে সন্তানকে না পেয়ে ঐদিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন হিমেলের মা।
এরমধ্যেই একাধিক ভারতীয় মোবাইল নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে হিমেলের মা'কে ফোন করে ছেলেকে মুক্ত করতে মুক্তিপণ হিসেবে দুই কোটি টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। পরবর্তীতে ৩০ লাখ টাকা না দিলে সন্তানের হাত কেটে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় তারা।
বিষয়টি নিয়ে ডিবি লালবাগ বিভাগ জানলে একাধিক টিম অনুসন্ধানের নামে। ডিবির একাধিক টিম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানাধীন টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় লোকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করে।
গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য, ডিজিটাল তথ্য এনালাইসিস করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পুলিশকে দিয়ে মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলার পাহাড়িয়া এলাকায় একাধিক অভিযানের ব্যবস্থা করে লালবাগ বিভাগ। উদ্ধার করে জুতা, ব্যাগ, মোবাইল সেট এবং অনেক মোবাইল নাম্বারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত।
ডিবি পুলিশ ছায়া তদন্তে অপহরণকারী চক্রটিকে নিশ্চিত করে চিহ্নিত করে চক্রের সদস্যদেরকে। এরই প্রেক্ষিতে উত্তরা পশ্চিম থানায় অপহরণের ধারায় নিয়মিত মামলার রুজু হয়। ছায়া তদন্তে বেশ অগ্রগতি থাকায় পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশে অপহরণ মামলাটি উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে ডিবি লালবাগ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।
গতকাল বিকেলে শরীয়তপুর জেলার গোঁসাইহাট থানাধীন একটি অত্যন্ত চর থেকে আসামী মাসুদকে গ্রেফতার করে ডিবি লালবাগের একটি দল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণ চক্রান্তে জড়িত রুবিনা ও কামরুন্নাহারকে সন্ধ্যায় তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামি মাসুদ এবং সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার টাঙ্গুয়ার হাওড়ের বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে অপহরণ চক্রের চারজন মূল আসামিকে হাওরের একটি নৌকার মধ্যে দেখা যায় বলে জানতে পারে ডিবি লালবাগ বিভাগ ও অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার, ওসি মধ্যনগর, ওসি তাহিরপুর ও টেঙ্গুয়ার হাওয়ার এলাকার টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির আইসিকে জানানো হয়।
এসব পুলিশ ইউনিট বিশেষ করে টেকেরঘাট থানার আইসি স্থানীয় জনতাকে সাথে নিয়ে হাওড়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে চার জন মূল আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো আব্দুল মালেক, ড্রাইভার সামিউল, মানিক মিয়া এবং মোবারক হোসেন।
ঢাকা ডিবি পুলিশের রিকুইজিশনের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় আসামিদেরকে গ্রেফতার করার অল্প সময়ের মধ্যে সিলেট অঞ্চলের র্যাব সদস্যরা উপস্থিত হয়। তারা আসামি মালেক এবং সামিউলকে নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকা ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাহাড়িয়া অঞ্চলে তীব্র কুয়াশা বিবেচনায় রেখে তারা ভিকটিমকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে।
অপহরণ কাণ্ডে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিকে উদ্ধারসহ মূল সকল আসামিকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
