সারা বছরই পেঁয়াজের চাহিদা থাকলেও রোজার মাসে পৌনে দুই লাখ টনের চাহিদা বেড়ে পাঁচ লাখ টনে ওঠে। সরকারি বিপনন সংস্থা টিসিবির হিসেবে সেই পেঁয়াজের দাম মঙ্গলবার গত বছরের এই দিনের তুলনায় ১৬১ শতাংশ বেশি। এখন পেঁয়াজের আমদানিও হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে, রোজার বাজার লক্ষ্য করে পেয়াঁজ ছাড়া ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেলসহ সব পণ্য আমদানিতেই ঋণপত্র খোলা বেড়েছে। যদিও বাজারে এখন এসব পণ্যের দাম গেলো বছরের তুলনায় ছয় থেকে ১৬১ শতাংশ বেশি।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, পণ্য আসছে বলে আত্মতুষ্টি নিয়ে বসে না থেকে বাজারে নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।
অবশ্য চিনি, সয়াবিন তেল, খেজুরের দাম এখনই অনেক বেশি। খুচরা ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সরবরাহে ঘাটতি না থাকলে, দাম কেন বেশি? কেনই-বা দাম বাড়লে আর কমানো যাচ্ছে না ?

তারা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে থাকলে দামের এমন অবস্থা থাকতো না। আবার ৫০ টাকা বাড়িয়ে পাঁচ টাকা দাম কমানোও হচ্ছে। তবে বর্তমানে পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা গেলে সবার জন্যই ভালো হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, এবার পেঁয়াজে সরবরাহ সঙ্কট থাকলেও বাজার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দাবি, ছোলা, চিনি , সয়াবিন তেল, খেজুরের মতো পণ্যগুলোর সরবরাহে ঘাটতি নেই। আবার এসব পণ্য আমদানির ঋণপত্রও খোলা যাচ্ছে জোরেসোরে। গত বছরের এই সময়ের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ বেশি ঋণপত্র খোলা হয়েছে।

ডিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার সামির সাত্তার বলেন, কেবল সরবরাহ বাড়িয়ে লাভ হবে না, মূল্য বেঁধে দিতে হবে। আর অসৎ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। আর আমদানি করা পণ্যগুলো দেশে আসার পরে কোথায় কেমন দামে বিক্রি হচ্ছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
এবার রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে দাম সহনীয় রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে বাজারে বাজারে অভিযানও শুরু হয়েছে আবার।
