বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ করায়, মিয়ানমারের তিন সামরিক কর্মকর্তাতে কঠিন শাস্তি দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট থ্রি বাদারহুড অ্যালায়েন্সের কাছে আত্মসমর্পণের অভিযোগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং এক কমান্ডারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সামরিক আদালত।
এই তিন সেনা কর্মকর্তা গত মাসে চীন সীমান্তের একটি কৌশলগত শহরে আত্মসমর্পণের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বলে সামরিক একটি সূত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে। শান রাজ্যের লাউকাই নামের শহরটি থ্রি বাদারহুড অ্যালায়েন্সের কাছে ছেড়ে দেয়াতে সংশ্লিষ্ট তিন সেনা কর্মকর্তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হয়েছে।
সেখানে কয়েক মাস সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই জোটের সঙ্গে তীব্র লড়াই করে মিয়ানমার জান্তার সেনা সদস্যরা। এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এই তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকতে না পেরে, গেলো জানুয়ারিতে শত শত সেনা অস্ত্র জমা দিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের কাছে ছেড়ে দেয়।
মিয়ানমারের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের একটি শান। কারণ, মিয়ানমারের এই প্রদেশটির সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে চীন, লাওস এবং থাইল্যান্ড, এই তিন দেশের। শান প্রদেশের সবচেয়ে বড় শহর ও রাজধানীর নাম লাউকাই। এই শহরের পতন মিয়ানমার জান্তার জন্য ছিলো বড় ধরনের একটি পরাজয়।

থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স- মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএ), আরাকান আর্মি (এএ) এবং তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) সঙ্গে প্রায় এক মাস ব্যাপক সংঘাতের নিজেদের অধীনে থাকা সেনাদল নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও এক কমান্ডার।
তবে আত্মসমর্পণের পর সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিরাপদে লাউকাই ছেড়ে যেতে সহযোগিতা করেছে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স। কিন্তু নেপিদোতে ফিরেই জান্তা প্রধানের রোষের মুখে পড়েন তারা। কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করা হয় তাদের। দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। সেই অন্য তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে এই দণ্ড কবে কার্যকর হবে তা জানা যায়নি।
২০০৮ সাল পর্যন্ত শান প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ছিলো থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সভুক্ত জোট এমএনডিএ’র। বর্তমান জান্তা-প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং ২০০৯ সালে এমএনডিএ’কে নিষিদ্ধ করেন এবং সামরিক বাহিনীপন্থী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেন।
জান্তাপন্থী ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী শানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিন দেশের সঙ্গে সীমান্ত থাকা প্রদেশে মাদক, যৌন ব্যবসা এবং মানবপাচারের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করে। এই তিনটি খাত ছিল ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির আয়ের প্রধান উৎস। এই ঘটনায় প্রতিবেশী চীন বেশ কয়েকবার জান্তাকে ব্যবস্থা নিতে বললেও, তারা সেটি নেয়নি।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর, ২০২২ সালের দিকে গণতন্ত্রপন্থিদের একাংশ জান্তা-বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দেয়া শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে সেনাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফোর্স (পিডিএফ)। থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সভুক্ত তিন গোষ্ঠী পিডিএফ জোটেরও নেতৃস্থানীয় সদস্য।
পাকিস্তানে নতুন সরকারের সামনে বড় যে চ্যালেঞ্জ