গতবারের তুলনায় এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বেচাকেনা বেশি হয়েছে। বেড়েছে রপ্তানি আদেশও।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের মেলায় প্রায় তিন কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৯২ কোটি টাকা। এছাড়া প্রায় ৪০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।
এদিন বিকেল ৫টায় মেলার স্থায়ী ভেন্যু ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চায়না মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে’র মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু) আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এবার হস্ত শিল্পকে বর্ষসেরা পণ্য ঘোষণা করেছেন। বাণিজ্যমেলার মাধ্যমে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি, লেদার, জুট, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হস্ত শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। হস্ত শিল্পকে এগিয়ে নিতে আগামী বছর আলাদা প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থা থাকবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, এফবিবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসানসহ অনেকে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, মাসব্যাপী মেলায় বিদেশি ব্যবসায়ীরা আসতে চান না। আমরা চিন্তা করছি এই মেলাটিতে ঢাকা বাণিজ্য মেলা নাম দিয়ে আগামীতে ৫ দিনের ভিন্ন একটি আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে।

এসময় এফবিবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম সে প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে এফবিবিসিসিআইয়ের সার্বিক সহযোগিতা ও পার্টনারশিপের প্রস্তাব দেন।
আয়োজকেরা মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা তুলে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত সময়ে মেলা শুরু না হলেও এবার ব্যাপক সাড়া মিলেছে। গতবারের চেয়ে ১৫ শতাংশ বিক্রি বেড়ে এবার পণ্য বিক্রি হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার।
তাছাড়া গতবারের চেয়ে এবার ১৭.২৫% রপ্তানি আদেশ বেড়েছে। মেলায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রপ্তানি আদেশ এসেছে ৩৯১ কোটি ৮২ লাখ টাকার।
এবারের মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলে মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জা ও গৃহস্থালি সামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারীওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য ইত্যাদি পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
এই আসরে ৩৫১টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্যাভিলিয়ন ও স্টল বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে অংশ নেয়।
মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, হংকং, জাপান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ৯টি স্টল প্যাভিলিয়ন অংশ নেয়।
মেলায় এ বছর সেরা স্টল, প্যাভিলিয়ন নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।
বাণিজ্য মেলার সময় বাড়ানোর দাবি