গাজা উপত্যকায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়াতে যুদ্ধবিরতির সবশেষ প্রস্তাবটিও হোঁচট খেতে পারে। কারণে প্যারিস বৈঠক থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠি- হামাসের কাছে যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিলো, সেটি নিয়ে সংগঠনটির মতামতকে মেনে নিতে পারেনি ইসরাইল।
ইসরাইলের গণমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক জেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে। বলা হয়েছে, চলমান গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্যারিসে যে কাঠামোটির উপর আলোচনা হয়েছে, সেখানে হামাসের দেয়া দাবিগুলোকে যুক্তিযুক্ত মনে করছে না তেল আবিব। ফলে এই দফাও প্রস্তাবটিও ভেস্তে যেতে পারে।
কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সমন্বয়ে চলমান প্যারিস শান্তি আলোচনা থেকে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দেয়া হয় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে। এই প্রস্তাব অনুসারে গাজায় ৪০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি হবে এবং এই সময়ে হামাসের হাতে জিম্মি ও ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময় করা হবে।
প্যারিসে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা অনুযায়ী, হামাসের হাতে আটক একজন ইসরাইলি জিম্মির বিনিময়ে ১০ জন করে ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়া হতে পারে। এ ৪০ দিনে ইসরাইল বা হামাসের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে না।
হামাসের হাতে থাকা ১৯ বছরের কম ও ৫০ বছরের বেশি বয়সি এবং অসুস্থ ৪০ জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে। বিপরীতে ইসরাইল মুক্তি দেবে ৪০০ ফিলিস্তিনিকে। একই সাথে ইসরাইল এই ৪০০ জনকে আর কখনোই গ্রেপ্তার করবে না বলে নিশ্চয়তা দেবে। গাজার হাসপাতাল ও বেকারিগুলো পুনরায় চালু করা হবে।
এসব প্রস্তাবে উপর হামাস কিছু মতামত দিয়ে আবারও তা ফেরত পাঠায় প্যারিসে। সেই মতামতের সঙ্গে একমত হতে পারছে না ইসরাইল। ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সূত্র বলেছেন, ইসরাইল গাজায় সহায়তার পথ প্রসারিত না করলে নতুন করে কোনো চুক্তি হওয়া সম্ভব হবে না।
ইসরাইল ও হামাসের মূল দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য আছে। ইসরাইল চায়, নতুন যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি হবে সাময়িক সময়ের জন্য। কিন্তু হামাস চাইছে, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কিংবা এমন একটি যুদ্ধবিরতি যা স্থায়ী শান্তির পথ খুলে দেবে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি মিলবে। এজন্যই উভয় পক্ষের একমত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছে, আমরা নতুন করে চুক্তিতে যেতে চাই। আমরা সেজন্য প্রস্তুতও রয়েছি। এখন হামাস রাজি হলেই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তবে হামাস চুক্তিতে যাওয়ার জন্য যে দাবি জানাচ্ছে, তা অসঙ্গত।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। আশা করছি, আগামী সোমবারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি দেখতে পাবো। এ ব্যাপারে খুবই কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সবপক্ষ। তবে এখন শেষ করা যায়নি।
গাজায় ক্রমশ ঘনীভূত হতে থাকা মানবিক সংকটের মধ্যে মিসর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের প্রতিনিধিরা ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চলমান যুদ্ধে সাময়িক বিরতি টানা ও গাজায় অবস্থান করা ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্ত করার কৌশল খুঁজছেন তাঁরা।
নতুন ইমাম পেলো দিল্লির জামে মসজিদ