বেইলি রোডের একটি ভবনে আগুন লেগে অর্ধশত মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযানে নেমেছেন তারা।
শনিবার তিনি বলেছেন, ভবন ব্যবহারে অনিয়ম পেলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। আর এক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো নোটিশ দেয়া হবে না।
রাজউক চেয়ারম্যানের অভিযোগ, শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ রাজউক থেকে নকশা পাশ করে নেয়ার পরও, সেই অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করে না।
রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ মৌচাক মার্কেটকে তিনবার নোটিশ দেয়া হলেও মালিক সমিতি কোনো কর্ণপাত করছে না বলে জানান আনিছুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘তাই ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন, শপিংমলে কাল থেকে অভিযান চলছে।
পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট, শপিং মল ও ভবনে যেনো কেউ না যান, সেজন্য মানুষকে সাবধান করে রোববার গণ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে বলেও জানান রাজউক চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
ওই আগুনে পুড়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন ভর্তি আছেন।
রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড ও প্রায় অর্ধশত প্রাণহানির ঘটনায় রমনা থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাজধানীতে ভবনে আগুন লেগে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে প্রায়ই। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে রাজউক কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ও অভিযোগ রয়েছে।
রাজউক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, যেসব ভবনে আগে আগুন লেগেছিলো, সেসব নিয়ে মামলা চলছে।। তবে নির্দেশনার বাইরে কার্যক্রম চলবে না।
আর বেইলি রোডের ঘটনায় রাজউকের কারোর গাফলতি থাকলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান।
আগুন লাগা ভবনটি ছিলো এক মৃত্যুকূপ
বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় মামলা