মধ্যপ্রাচ্যের কসাই হিসাবে খ্যাত ইসরাইলি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কি ক্রমশই একঘরে হয়ে পড়ছেন? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা দুনিয়াতে। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ইসরাইলের নির্মমতায় আর সায় দিতে পারছে না বিপদ-আপদের চরম বন্ধু আমেরিকাও। সেই সঙ্গে এনিয়ে ঘরেও অশান্তি।
সবশেষ ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের বিস্ফোরক মন্তব্যে নেতানিয়াহুর দিশেহারা অবস্থা। তাহলে কি পরীক্ষিত দোসরও পাশ থেকে সরে যাচ্ছে, এমন চিন্তায় যখন ইসরাইলি নেতার ঘুম হরাম তখন, নিজ দেশের মানুষের সমর্থনও পাচ্ছেন না তিনি।
আমেরিকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সঙ্গত কারণেই জো বাইডেনও এখন আর নেতানিয়াহুকে কোলে রাখার পক্ষে না। দিন দিন বাইডেনের সঙ্গে তাই নেতানিয়াহুর সম্পর্ক গড়াচ্ছে দা-কুমড়ো পর্যায়ে। গাজায় অসহায় মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা করার ‘পাপের ঘড়া’ এবার বুঝি পূর্ণ হতে চলেছে যুদ্ধবাজ নেতা নেতানিয়াহুর।
গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের তীব্রতা কমিয়ে আনতে ইসরাইল যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে কড়া ভাষায় ঝারি দিয়েছেন কমলা হ্যারিস। ইসরাইলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় ভর্ৎসনা ছিল এটি। এই ধাক্কাকে আরও মজবুত করছেন নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী মন্ত্রী বেনি গ্যান্টজ।
সূত্র বলছে, নেতানিয়াহুকে না জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন গ্যান্টজ। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন গ্যান্টজ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে গ্যান্টজের জাতীয় ঐক্য পার্টি।
নিউইয়র্ক টাইমসকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, তারা জিম্মি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি, গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়াতে মার্কিন প্রতিশ্রুতি এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে জো বাইডেন প্রশাসনের বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। গত রোববার এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে ওঠে, অনুমতি ছাড়াই গ্যান্টজের ওয়াশিংটন সফরে। দিশেহারা হয়ে নেয়ানিয়াহু ইসরাইলি দূতাবাসকে নির্দেশ পাঠান, যাতে গ্যান্টজকে কোন ধরনের সহায়তা না হয়।
ইসরাইল যে গেঁড়া কলে পড়বে তা আগেই ঠাহর করতে পেরেছিল আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কারণ গাছে তুলে মই কেড়ে নেয়ার স্বভাব বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের। আর এবারও হলো ইতিহাসের সেই পুনরাবৃত্তি। অবশ্য ইসরাইলের প্রতি সমর্থনের কারণে বাইডেন এখন দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাপের মুখে।
নেতানিয়াহু-বাইডেনের বন্ধুত্বে এখন বিরাজ করছে শনির দশা। তাদের মতবিরোধটা মূলত গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতা ও ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দেয়ায় সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে। এমন যখন অবস্থা, তখন তার উপর আগুনে আরও ঘি ঢেলে দিলেন গ্যান্টজ।
এদিকে একের পর এক ধস নামছে ইসরাইলে। দেশটির সেনা মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারির দলের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদ ছেড়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন জেনারেল রিচার্ড হেসিট। যিনি ইসরাইলি সেনাদের বিদেশি সংবাদমাধ্যমের মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন। এমন তথ্যই দিচ্ছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১৪।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ড্যানিয়েল হ্যাগারির সেকেন্ড ইন কমান্ড মোরান কাটজসহ আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গাজা যুদ্ধের কারণে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। গাজা যুদ্ধ এবং এটি সংঘটিত করা নিয়ে ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ফাটল সাম্প্রতিক সময়ে আরও বড় হয়েছে।
ইরানি বন্দরে ৩৫ মিলিয়ন বিনিয়োগ করলো তালেবান