কুমিল্লা সিটির ভোটে এবার মেয়র পদে জয়-পরাজয়ের অন্যতম নির্ধারক হবে শহরতলীর অবহেলিত এলাকার ভোট। যেখানে এখনও কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছেনি। এসব এলাকার ভোটাররা বলছেন, সিটি নির্বাচন এলে প্রতিবারই তারা বিপুল উৎসাহ নিয়ে ভোট দেন। কিন্তু ভোটের পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যান জন প্রতিনিধিরা। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবার প্রত্যন্ত এলাকার ভোট পাবার চেষ্টায় মাঠে নেমেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী চার মেয়র প্রার্থী।
ছবির মতো সাজানো-গোছানো গ্রাম ছিলো নন্দনপুর। কিন্তু সিটি করপোরেশনে যুক্ত হবার পর কুমিল্লা শহরতলীর এই গ্রামের জৌলুস হারিয়েছে।
চোখের সামনে নন্দনপুরের পাল্টে যাওয়া দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম মুকুল। তার আক্ষেপ, নগরায়ণের নামে নন্দনপুরকে গিলে খাচ্ছে অপরিকল্পিত হাউজিং।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, দিন দিন গ্রাম হারিয়ে যাচ্ছে। জায়গা-জমি হারিয়ে যাচ্ছে। এখন বাচ্চারা যে খেলবে সেরকম একটা মাঠ নাই।
এমন আরও অনেক নন্দনপুর আছে কুমিল্লায়। যেখানে শহরের পরিচয়ে বিলীন হচ্ছে গ্রাম। বিনিময়ে মিলছেনা শহুরে সুবিধা।

চাঙ্গিনী, গন্ধমতি, কোটবাড়ি, সালমানপুর, দিয়াবাড়িয়ার মতো জনপদগুলো কেবল কাগজে কলমে সিটি করপোরেশন।
প্রতিদিন ময়লা নেয়ার কথা থাকলেও সিটি করপোরেশনের সেবা মেলে কালেভদ্রে। হাতেগোনা কিছু পয়েন্টে সড়ক বাতি। তাও একবার নষ্ট হলে আর মেরামত হয় না।
খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, হাসপাতাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা যেন চিন্তারও অতীত।

শহরতলীর এসব এলাকা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা জানালেন মেয়র প্রার্থীরাও।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, জলাবদ্ধতা, যানজট এবং আমাদের কাঙ্ক্ষিত যে সেবা পাওয়ার কথা সে সেবাগুলো নিশ্চিত করার জন্য আমি ইতিমধ্যে একটা নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছি। সেখান ১২ দফা বিস্তারিতভাবে আছে। .
আরেক স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম বলেন, আমি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখবো। আমি শহরকে সবুজে সবুজে ঢেকে দিতে চাই। আমি নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসেবা এই ব্যাপারগুলোতে আমি গুরুত্ব দিবো।
৯ মার্চ কুমিল্লা সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচনে ২ লাখ ৪২ ভোটারের বড় একটা অংশই শহরতলীর। এই ভোটাররা এবারও জয়-পরাজয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ।
ময়লার ‘ভাগাড়’ কুমিল্লা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের