বর্জনের ঘোষণা থাকলেও কুমিল্লা সিটির মেয়র উপনির্বাচনে শক্ত অবস্থানেই আছে বিএনপি। তবে, মেয়র পদে বহিষ্কৃত দুই নেতা মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সারে বিভক্ত স্থানীয় বিএনপি। প্রকাশ্যেই ভোটের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
কায়সার বলছেন, বিএনপির ভোট বর্জনের প্রাসঙ্গিকতা এখন আর নেই। আর ভোটে জিতে কুমিল্লায় বিএনপির অবস্থান ফিরিয়ে আনতে চান সাক্কু।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে কুমিল্লার সবশেষ সিটি ভোট বয়কট করেছিলো বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট করে বহিষ্কার হন বিএনপির স্থানীয় দুই নেতা মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার। আগামী ৯ মার্চের উপনির্বাচনে আবারও প্রার্থী হয়েছেন এই দু’জন।
আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপি ঘরানা দুইজন। এ অবস্থায় আলোচনা উঠছে, কি দাঁড়াচ্ছে কুমিল্লায় বিএনপির ভোটের সমীকরণ?
২০২২ সালের কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল হক সাক্কু পান ৪৯ হাজার ৯শ’ ৬৭ ভোট। আর নিজাম উদ্দিন কায়সার পান ২৯ হাজার ৯৯ ভোট। দু’জনের সম্মিলিত ভোট ছিলো ৭৯ হাজার ৬৬। বিপরীতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
দলগতভাবে এবারও ভোটে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তবে সাক্কু ও কায়সারে বিভক্ত ভোটের মাঠে আছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার বলছেন, যে কারণে ২২ সালের ভোট বয়কট করেছিলো বিএনপি, এখন আর সেই প্রাসঙ্গিকতা নেই।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলছেন, গত নির্বাচনের চেয়ে বিএনপি এবার সাংগঠনিকভাবে নমনীয় অবস্থানে আছে।
স্থানীয় বিএনপিতে বিভক্তির বিষয়টি স্বীকার করছেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুও। তিনি জানান, তার কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এবার দলীয় প্রার্থী নেই আওয়ামী লীগেরও। তবে আছেন দুই প্রার্থী। বিএনপির সম্মিলিত ভোট ব্যাংক নিশ্চিতভাবেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২২ সালের ১৫ জুনের ভোটে নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোট হবে শনিবার।
সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর কুমিল্লায় বিএনপির সমর্থনে বা মার্কা নিয়ে সাক্কু জয় সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে বিএনপি আসেনি। সেই নিজামউদ্দিন কায়সার ‘বিএনপিপন্থিদের ভোটে’ ভাগ বসালে হেরে যান সাক্কু। নির্বাচনে নৌকা নিয়ে আরফানুল হক রিফাত ভোট পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০টি। মনিরুল হক সাক্কু ধানের শীষ না পেয়ে টেবিল ঘড়ি মার্কায় পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৩৪৩ ভোট।
২০০৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে মনিরুল হক সাক্কু বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র ছিলেন। ২০১২ সালে কুমিল্লা সিটির কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক সমাজের ব্যানারে দাঁড়িয়ে নগরপিতা নির্বাচিত হন সাক্কু। সেবার তিনি আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আফজল খানকে হারান।
২০১৭ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন সাক্কু।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী কুমিল্লা সিটির ২৭টি ওয়ার্ডে ভোট হচ্ছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১০৫ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে একটি পদের ভোটগ্রহণ করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।
শেষ সময়ের প্রচারে ব্যস্ত ময়মনসিংহের মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা