প্রায় আড়াই বছর আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের মসনদে আবারও নিজেদের দখলে নেয় কট্টর ইসলামপন্থি তালেবান। শুরুতে প্রতিশ্রুতি ছিল পূর্বের তুলনায় উদার হবে তারা। আগের চেয়েও অনেক বেশি নিশ্চিত হবে নারীর সব ধরনের অধিকার। কিন্তু ২ বছর পর দেখা যাচ্ছে, উল্টো পথে হাঁটছে আফগানিস্তান। সংকুচিত হয়েছে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকার।
কঠিন শরিয়া আইনের পথেই হেঁটেছে তালেবান। যার কারণে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই কাবুলের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন ভেলকি দেখাতে শুরু করেছে তালেবান। অর্থনীতি বিনির্মাণে একের পর এক সফলতা দেখাচ্ছে দেশটি। মুদ্রার মান বাড়ানো থেকে শুরু করে বাণিজ্য ক্ষেত্রে নিত্য নতুন সব চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে আফগানিস্তানের সরকার।
এ যেন হার না মানা এক দেশ। দারিদ্র-আর ক্ষুধার সাথে লড়াইরত আফগানিস্তানকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে তালেবান। ধ্বংসস্তূপ থেকে যেন রূপকথার ফিনিক্স পাখির মতো নবজন্ম হয়েছে দেশটির। নতুন দিনের হাতছানি দেখাচ্ছে দেশের কৃষি খাত। মার্কিন ডলারকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে আফগানি মুদ্রা। সুয়েজ কিংবা পানামা থেকেও বড় খাল খননের কাজ শুরু করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দেশটি।
সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও এখন ভাইরা। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ, তিন হাজারের বেশি যন্ত্রপাতি নিয়ে চলছে কোশ টেপা খালের খননকাজ। এই খাল দিয়েই বয়ে যাবে আমু দরিয়ার পানি। আফগানিস্তানের অবস্থা দেখে তাল হারাচ্ছে উন্নত বিশ্বও। এর মধ্যেই ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছায় কাবুল। তালেবানকে স্বীকৃতি না দিলেও, ঠিকই তাঁদের সম্ভাবনা দেখে চুক্তি করে ফেলেছে রাইসি সরকার।
ইরানের পাশাপাশি সপ্তাহ তিনেক আগে আফগানিস্তানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করে চীন। এ ঘটনা দেখে নড়েচড়ে বসেছে অন্যান্য দেশগুলোও। প্রতিবেশী ভারত তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে চীন মাঠে নামতেই আর সময় নষ্ট করেনি দিল্লি।
ভূ-রাজনীতির সমীকরণে আফগানিস্তানের সাথে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করলো ভারত সরকার।
কিছুদিন আগেই আফগানিস্তানকে ৫০ হাজার টন গম, ওষুধ, টিকা এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী দেয়ার ঘোষণা করে চীন। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার রাতে কাবুলে যায় ভারতের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার ভারতের পাক-আফগান এবং ইরান বিষয়ক যুগ্মসচিব জেপি সিংহসহ ভারতীয় কূটনীতিকদের একটি দলের সাথে বৈঠক করেন তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াকিল আহমেদ মুত্তাওয়াকিল।
তালেবান সরকারের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, ট্রানজিট রুটের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, দুর্নীতি মোকাবিলা এবং সন্ত্রাস দমনের মতো বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে। শুধু তাই নয় মানবিক সহায়তা দেয়ায় ভারতের প্রশংসা করে তালেবান।
তবে বৈঠকের পর আরেকটি বিষয়ও আলোচনা হচ্ছে দেশটির গণমাধ্যমে। বলা হচ্ছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ইরানের চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়াতে বেশ কিছু দিন ধরেই সক্রিয় ভারত। সে কারণে এই বৈঠকের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশের সরকার। যদিও অনেকে ভাবছেন, চীনের সাথে পাল্লা দিতেই সম্পর্ক-বাণিজ্য এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে উদ্যোগী ভারত।
সৌদিতে সোমবার থেকে রোজা শুরু