দিনমজুর ও গরিবের পাতেও থাকছে খেজুর

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৪, ০৬:০৫ পিএম

রহিমা খাতুন একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পরিবারসহ তিনি থাকেন রাজধানীর মহাখালী এলাকার সাততলা বস্তিতে। ইফতারে খুব বেশি আয়োজন তিনি করেন না। তবে যেটুকু না হলেই নেই তা দিয়ে ইফতারি করেন পরিবারে সঙ্গে। তিনি জানান, ইফতারে ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু আর শরবতের সঙ্গে খেজুর এবং জিলাপি রাখেন। তা দিয়েই প্রতিদিনের ইফতার চলছে।

সাততলা বস্তি এলাকার মানুষদের জন্য একটি বিস্তৃত কাঁচাবাজার আছে। এই বাজারে সবকিছুই মেলে। এখানে আমদানি করা ফলের দোকানে খেজুর বিক্রি হয়। এ রকম দোকান আছে তিনটি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা কেজি দামের খেজুর তাদের কাছে আছে। সর্বনিম্ন দামের খেজুর হচ্ছে ২০০ টাকা। এই খেজুরই মোটামুটি এই এলাকার সবাই কেনে। এছাড়া কিছু কিছু বেশি দামের খেজুরও বিক্রি হচ্ছে তবে তা পরিমাণে কম।

খেজুরের দাম নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ইফতারের মূল কেন্দ্রবিন্দু খেজুরকে ঘিরেই। অনেকেই বলছেন, এতো দাম হলে খেজুর কীভাবে খাওয়া যাবে। আবার কেউ কেউ গরীব ও নিম্ন আয়ের মানুষের কথাও চিন্তা করে অনেকে দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করছেন। তবে কম দামের হলেও গরিবের পাতেও থাকছে খেজুর।

সাততলা বস্তি এলাকার ফল ব্যবসায়ী মোতালেব জানান, রমজান মাত্র শুরু হলো। ২০০ টাকা কেজি দামের খেজুর মোটামুটি সবাই নেয়। এছাড়া মরিয়ম খেজুর, বড়ই খেজুর আছে। সেগুলা একটু কম চলে।

প্রতিদিন কেমন বিক্রি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবদিন বিক্রি হয় না। মনে করেন আজকে যে খেজুর নিচ্ছে সে তো কালকে নিব না, হয়তো দুইদিন পরে আবার নিবে। গড়ে প্রতিদিন ৫-১০ কেজি খেজুর বিক্রি হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাততলা বস্তিতে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। ছোট ছোট টিনের ছাউনি দিয়ে অন্তত ১০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি আছে এখানে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে দিনযাপন করেন মিজান। তার ঘর এই বস্তিতেই। সারাদিন এলাকায় রিকশা চালিয়ে বিকালে বাসায় ইফতার করেন পরিবারের সঙ্গে। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইফতারে বেশি কিছু খাওয়া হয় না। শরবত আর খেজুর হইলেই আমাদের চলে। তবে মাঝেমধ্যে একটু পেঁয়াজু, ছোলা মুড়ি খাওয়া হয়। রিকশার জমা দেয়ার পর খুব একটা টাকা হাতে থাকে না। যা থাকে তা দিয়ে বাজার করি ঘরের জন্য। ওইটাই আসল। তারপর ইফতারি আর কি। কোন কোন দিন ইফতারে ভাত তরকারিও খাওয়া হয়।

এই এলাকার ফল ব্যবসায়ী রমজান বলেন, বড়ই, খেজুর আর ২০০ টাকা দামের খেজুর বেশি চলে। অনেকেই নেয়। কেউ অল্প অল্প নেয়, কেউ এক কেজি করে নেয়, কয়েকদিন চলে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পরও বাজারে যখন খেজুরের দাম বেড়েই চলছিল, তখন পরিস্থিতি সামলাতে পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগের দিন বহুলব্যবহৃত দুই ধরনের খেজুরের দাম বেঁধে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সাধারণ মানের খেজুর ১৫০-১৬৫ টাকা এবং জাইদি খেজুর ১৭০-১৮০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে ১৫০ টাকা দরে খেজুর বিক্রি করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। একজন ফ্যামিলি কার্ডধারী ভোক্তা এক কেজি খেজুরের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম রাখা হবে ১০০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা ও মসুর ডাল ৬০ টাকা ও চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করছে টিসিবি। কম মূল্যে পণ্য বিক্রির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে কিছুটা স্বস্তি।

এআরএস
রমজানে দাম সহনীয় রাখতে খেজুরের আমদানি শুল্ক কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
রাজধানীর বাজারে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। গত কয়েক মাসের তুলনায় সবজিতে দাম কমেছে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত।
রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সবজি দেখা গেলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখন নাগালের বাইরে। বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। সঙ্গে গত দুই সপ্তাহ ধরেই পেঁয়াজ, আদা ও এলাচের দাম বেড়েছে।
একদিন পরেই শুরু হয়ে পবিত্র মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার মাস। এই সময়ে ইফতার পণ্যের দামে নিয়ে ক্রেতার মধ্যেই এক ধরনের আশঙ্কা থাকে। তবে, এবার রোজায় পেঁয়াজ ছোলা খেজুরসহ অন্যান্য ইফতার পণ্যের সংকট হবে না...
দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে ভয়াবহ হাম ও হামের উপসর্গের তাণ্ডব। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। একই সময়ে...
কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি, চাপে বাংলাদেশের রপ্তানি
একমাত্র কোলের সন্তানকে ঘাতক ট্রেনের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিলেন এক মর্মান্তিক ও সাহসী মা। রাজবাড়ীর পাংশায় ছাতা হাতে রেললাইনে বসে থাকা তিন বছরের নিষ্পাপ শিশুটিকে বাঁচাতে...
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৯৮৮ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর