মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন জ্যাকপটের নৌ কমান্ডো রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি মুখপাড়ার প্রবীণ আবিউর রহমান। ১৬ বছর বয়সের আবিউর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংসের মিশনে। বয়স ৭০ না পেরোলেও ক্ষীণ হয়ে গেছে দৃষ্টি শক্তি, কানেও কম শোনেন। বসবাস করেন রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের নিচে। বুকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আগলে রেখেছেন আবিউর রহমান।
১৯৬৯ সালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে ১৪ বছর বয়সে মামা বাড়ি চট্টগ্রামের বাড়বকুণ্ডে চলে আসেন আবিউর। সেখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করতেন একটি কেমিক্যাল কারখানায়। ১৯৭১ সালে কিশোর বয়সে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে।
২৯ মার্চ ভারতের সাতবাড়িয়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলা হয়ে আসামে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দেন আবিউর। ভালো সাঁতার জানায় সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় পশ্চিমবঙ্গের পলাশীতে, উত্তাল ভাগিরথী নদীতে শুরু হয় প্রশিক্ষণ।
একাত্তরের ১৪ আগস্ট ভারতের হাসনাবাদ দিয়ে সুন্দরবন হয়ে কুশখালী ক্যাম্পে পৌঁছান আবিউর রহমানসহ অন্যরা। নৌকমান্ডো হিসাবে অংশ নেন অপারেশন জ্যাকপটে।
এমন যোদ্ধার বীরত্বে গর্বিত তার পরিবার ও এলাকাবাসী। তবে মুক্তিযুদ্ধের এমন বীরের আরো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন মিলন ।
এখন অনেকটা নিভৃতেই দিন কাটান আবিউর রহমান। অবশ্য ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরসহ কোন রাষ্ট্রীয় দিবসে নৌবাহিনীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান তিনি।
