শুধু রাশিয়াই নয়, বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ভ্লাদিমির পুতিন। যতোই বিরোধিতা থাক, আর যতোই সমালোচনা থাকুক না কেন, তিনিই যে আবার মস্কোর মসনদে বসতে যাচ্ছেন, তার অনেকটাই অবধারিত ছিলো। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসতেই সব চিত্রও মিলে গেছে।
সব কিছুকে টপকে রাশিয়ায় আবারও একবার পুতিন সরকার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হলেন ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার রাশিয়ার নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়। যেখানে দেখা যায় ৮৮ শতাংশ ভোটই পেয়েছেন তিনি। তিন জন প্রতিদ্বন্ধী থাকলেও, তাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি ভোটাররা।
৮৭.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে আবারও০ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন পুতিন। তার বিরোধীরা কার্যত পুতিনের সামনে ধোপে টিকতে পারেনি। তবে কবে তিনি কবে প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেবেন, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে নিরস্কুষ জয়ের পর নতুন রেকর্ড যুক্ত হলো পুতিনের নামের পাশে।
জোসেফ স্টালিনের রেকর্ড ভেঙে তিনিই এবার রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রেসিডেন্ট। গত শুক্রবার থেকে শুরু হয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। রোববার রাত পর্যন্ত ভোট নেয়া। রাশিয়া ছাড়াও ইউক্রেনের দখল করে নেয়া অঞ্চল এবং অনলাইনেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
নিরষ্কুশ বিজয়ের পরপরই হুংকার দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুতিনের কথায়, রাশিয়া এবং ন্যাটোর মধ্যে সংঘর্ষের পরিণাম হতে চলেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সেদিন আর বেশি দূরে নেই। অনুমানের থেকেও কম সময়ের মধ্যে তা বাস্তব হতে চলেছে।
পুতিন বলেন, এখন এটা আর কোনো গোপন বিষয় নয় যে ন্যাটোর সৈন্যরা ইউক্রেনে অবস্থান করছে। আমরা সেখানে (ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে) ফ্রেঞ্চ এবং ইংলিশ ভাষায় কথোপকথন শুনতে পাই। ওখানে তাদের জন্য ভালো কিছু নেই। কারণ তারা দলে দলে মারা যাচ্ছে।
এই সময় তিনি ন্যাটো এবং রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। পুতিন বলেন, আধুনিক বিশ্বে সব কিছুই সম্ভব...কিন্তু সবাই জানে যে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক ধাপ কাছে আমাদের নিয়ে যাবে। আমি মনে করি না কেউ এতে আগ্রহী। কারণ, মানবজাতির জন্য যুদ্ধ মানেই ধ্বংস আর মৃত্যু।
পুতিন সোমবার এই বার্তাই দেন যে, পশ্চিমি দুনিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে এবং ইউক্রেনে সেনা পাঠিয়ে তিনি কোনও ভুল করেননি। পুতিন তাঁর সমর্থকদের বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান-সংশ্লিষ্ট বাকি কাজগুলোর সমাধানকে অগ্রাধিকার দেবেন তিনি। সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করবেন তিনি।
পুতিন বলেন, সামনে অনেক কাজ আছে। কিন্তু রুশরা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন যে শক্তিই ভয় দেখাতে চায়, দমন করতে চায় না কেন, ইতিহাস বলে, কেউ সফল হয়নি। তারা এখন সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও সফল হবে না। ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়ে ক্রেমলিন করেনি বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।
পুতিন আরও বলেন, অনেক পশ্চিমা দেশের চেয়ে রাশিয়ার গণতন্ত্র বেশি স্বচ্ছ। এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের মেইল-ইন ভোটের মতো নয়, সেখানে ১০ ডলার দিয়ে একটি ভোট কেনা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘটছে, তাতে সারা বিশ্ব হাসছে। এটা কেবল একটি বিপর্যয়, গণতন্ত্র নয়।
পুতিন: দ্ররিদ্র পরিবার থেকে রাশিয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতায়