রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কাছে ক্রোকাস সিটি হলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে কনসার্ট হলের ভেতরে ও বাইরে নির্বিচারে গুলি চালানো চার সন্দেহভাজনও রয়েছে, যাদের সবাইকে তাজিকিস্তানের নাগরিক বলে চিহ্নিত করেছে রাশিয়া।
এই চারজন কনসার্ট হলে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে মস্কোর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ৩৪০ কিমি দূরে ব্রায়ানস্ক অঞ্চল দিয়ে ইউক্রেন সীমান্ত পেরনোর চেষ্টায় ছিলো। আটকের পর পরই বিশেষ প্রহরায় তাদেরকে মস্কো নিয়ে আসা হয়। রোববারই এই চার জনকে আদালতে তোলা হয়েছে বিচার শুরুর জন্য।
চার জনকেই রাশিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সন্দেহভাজন চারজনের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, এই চার জনই জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দোষ স্বীকার করেছে এবং হামলায় অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে।

চার তাজিক নাগরিককে গ্রেপ্তারের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে তাদের কীভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, তারই কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়ে নেট দুনিয়াতে ঘুরছে। এসব ভিডিওতে দেখা গেছে, চার জনেই অবস্থাই বেশ খারাপ, মারধরের কারণে কারো মুখমণ্ডল স্বাভাবিক নেই।
ফলে গ্রেপ্তারের পর তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অমানুষিকভাবে একজনের একটি কান কেটে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আরেক জনের একটি চোখ উপড়ে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অপর আরেকজনের চোখের নিচে কালশিটে পড়ে গেছে।

ডালেরজন মিরজোয়েভ নামে এক তাজিকিস্তানের বাসিন্দাকে মার খেয়ে মুখ ফোলা এবং চোখে কালশিটে পড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা গিয়েছে। কাচের খাঁচায় বন্দি অবস্থায় সে আছে। সাইদাকরম রাচাবালিজোদা নামে একজনের কানে বিরাট ব্যান্ডেজ বাঁধা রয়েছে। তারই এক কানের কিছু অংশ কেটে নেয়া হয়েছে।
হাসপাতাল পোশাকে হুইলচেয়ারে অজ্ঞান অবস্থায় দেখা মিলেছে মুহম্মদসবির ফয়জভ নামে আরেকজনের। তার সারা মুখে মেরে ফাটিয়ে দেয়ার চিহ্ন রয়েছে। শামসুদ্দিন ফারিদুনি নামের একজনের সারামুখেও অসংখ্য ক্ষত। আটকদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা হচ্ছে, এ সম্পর্কে মুখে স্পিকটি নট হয়ে আছে ক্রেমলিন।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মুহম্মদসবির ফয়জভকে বায়ানস্ক অঞ্চলের একটি বনা থেকে গ্রেফতারের সময় ব্যাপকভাবে মারধর করা হচ্ছে। মার খেয়ে তার মুখ নিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসতে থাকে। পরে ব্যান্ডেজ বেঁধে তাকে একটি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায় রাশিয়ার নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।
চার সন্ত্রাসীকে আটকের অভিযান চেচন বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেয়। শামসুদ্দিন ফারিদুনিকে গ্রেপ্তারের সময়ও হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ফারিদুনি হাঁটু গেড়ে বসে আছেন আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ সময় এই তাজিক কাঁপছিলেন।

ডালেরজন মিরজোয়েভকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাত পেছন দিকে মোড়ানো। জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে তিনি জানাচ্ছিলেন, সিটি হলে হামলার জন্য তাকে পাঁচ হাজার ডলার পুরস্কার দেয়ার কথা হয়েছিলো, যার অর্ধেকটা তিনি পেয়েছিলেন।
ফিলিস্তিনি বালকের বর্ণনায় আল-শিফার নির্মম হত্যাযজ্ঞ
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের যেভাবে তাড়াতে চায় ইসরাইল