ফিলিস্তিনি বালকের বর্ণনায় আল-শিফার নির্মম হত্যাযজ্ঞ

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০৫:৪০ পিএম

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হায়েনাদের নৃশংসতা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে, গেলো এক সপ্তাহজুড়ে গাজার দক্ষিণে সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে তা মানবজাতির ইতিহাসে বিরল। সেখানে নারী রোগীদের ধর্ষণ করার পাশাপাশি শিশুদের নির্বাচনে হত্যা করা হয়েছে। লাশের উপর দিয়ে ট্যাংকও চালিয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সেনারা।

আল-শিফা হাসপাতালে ইসরাইলের নির্মম হত্যাযজ্ঞের একটি খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে এক বালক বর্ণনায়, যা শুনলেও গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবে যে কোন মানুষের। কাতারভিক্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার কাছে ফিলিস্তিনি বালক বর্ণনা করে করেছেন কীভাবে সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইলিরা।

বালকটির বর্ণনায় উঠে এসেছে, কীভাবে হাসপাতালের ভেতরে তার বাবাসহ একদল লোককে যেভাবে হত্যা করেছে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা, তার করুণ বর্ণনা।

শিশু বালকটির নাম ফারুক মোহাম্মদ আহমদ। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, তারা ছিলেন আটজন। তাদেরকে গাজার মধ্যস্থলে অবস্থিত আল-শিফা হাসপাতালে পোশাক খুলে ফেলা হয়। তারপর তাদেরকে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। সবশেষে তাদেরকে হাসপাতালের টপ ফ্লোরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফারুক মোহাম্মদ বলেন, সেখানে তাদেরকে প্রায় তিন ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়। তারপর তারা বলে, তোমরা নিরাপদ, দক্ষিণের দিকে যেতে পারো। এই কথার পর, আমরা দাঁড়ালাম। সাথে সাথে তারা গুলিবর্ষণ করল। আমরা আবার ফ্লোরে শুয়ে পড়লাম। তারপর স্নাইপাররা আমাদেরকে গুলি করে মজা পেতে থাকল।

ফিলিস্তিন এই বালক আরও বলেন, মারা যাওয়ার আগে আমার বাবা আমাকে যতটা সম্ভব দৌড়াতে বললেন, তিনিও তখন দৌড়াচ্ছিলেন। আমি দৌড় শুরু করেছিলাম। কিন্তু তার আগে চেয়ে দেখলাম, বাবার নিথর লাশ পড়ে আছে। সেটাই শেষবার দেখা, আমি কোনোমতে সেখানে থেকে পালিয়ে গেলাম।

এভাবেই ইসরাইলি হায়েনারা সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী এবং আশ্রয় গ্রহণকারী হাজার হাজার মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। একজন ফিলিস্তিনি নারী প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ইসরাইলি সেনারা শিফা হাসপাতালে নারীদের হত্যা করার আগে ধর্ষণ করছে।

আরও অভিযোগ উঠেছে লাশের উপর দিয়ে ট্যাংক চালিয়ে দেয়ার। আল শিফা থেকে থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি ট্যাংক এবং সাঁজোয়া বুলডোজার কমপক্ষে চারটি মৃতদেহ এবং অ্যাম্বুলেন্সের উপর দিয়েই চলে গেছে। সময়ের সঙ্গে ইসরাইলিরা আরও হিংস্র হয়ে উঠছে।

ইসরাইল জানিয়েছে, আল-শিফা হাসপাতালে এবং আশেপাশে সপ্তাহব্যাপী অভিযানে কয়েক ডজন হামাস যোদ্ধাকে হত্যার পাশাপাশি ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। এই অঞ্চলে হামাসের অস্ত্র ও অবস্থান রয়েছে বলে দাবি ইসরাইলের। যদিও এর সপক্ষে কোন প্রমাণ দিতে পারেনি তারা।

এছাড়া হাসপাতালের ভেতর প্রসূতি ওয়ার্ড এবং জরুরি কক্ষের ভেতর থেকে হামাস হামলা চালাচ্ছে ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করছে বলে দাবি জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। যদিও হামাস এবং গাজার হাসপাতালগুলোর মেডিকেল স্টাফরা ইসরাইলের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এআরএস
টাইমলাইন: হামাস-ইসরাইল সংঘর্ষ
১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:৩৯
১৮ অক্টোবর ২০২৪, ২০:৫৪
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ থামেনি। সবশেষ দখলদারদের ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের পর থেকে ইসরাইলে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে যখন ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যের ‘কসাই’ খ্যাত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানালেন দখলদারদের সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির শর্তাবলীতে নিজের আখের গুছিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে পর্দার আড়ালে এক নতুন চাণক্য নীতি গ্রহণ করেছেন ইসরাইলের...
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন হত্যাসহ হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদীয়...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর