নীলফামারীতে দুই মাস পর গৃহবধূসহ দুই কন্যাশিশুর হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। হত্যাকারী স্বামীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বিভিন্ন এনজিওর ঋণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনার দিন গৃহকর্তা আশিকুল হক মোল্লা প্রথমে স্ত্রীকে একটি ঘরে নিয়ে গলাটিপে হত্যা, পরে অন্য ঘরে নিয়ে একইভাবে দুই শিশুকে হত্যা করেন। এরপর তিনি গলাকেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
শনিবার বিকেলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যার বর্ণনা দিয়ে এসব কথা জানান তিনি।
প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে আশিকুল হক মোল্লাকে ছাড়পত্র দেয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর বিকাল সাড়ে চারটার দিকে নীলফামারী সদর থানায় এনে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদ করে পুলিশ।
নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক মো. তানভীরুল ইসলাম জানান, রোববার বিকালে নীলফামারী জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন কবিরের এজলাসে হাজির করা হয় সেখানে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন আশিকুল।
চলতি বছরের দুই ফেব্রুয়ারি সকালে জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী বন্দর বাজার গ্রামের আশিকুল হক মোল্লার বাড়ির শোয়ার ঘর থেকে স্ত্রী তহুরা বেগম (৩২), মেয়ে আয়েশা আক্তার (১০) ও যারিন তান্নিমের (৬) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বাড়ির সামনে থেকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আশিকুল হক মোল্লাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয়রা।
হত্যার রহস্য উদঘাটনে সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে রংপুর সিআইডি ক্রাইম সিনের সদস্যরা। ঘটনার দিন তহুরা বেগমের ছোট ভাই মো. আসাদুজ্জামান বাদি হয়ে আশিকুল হক মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে আশিকুল পুলিশকে জানায়, ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তানভীরুল ইসলাম বলেন, জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
