মাদক কারবারে বদির ভাইদের ‘সংশ্লিষ্টতা’ পেয়েছে সিআইডি

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪২ পিএম

টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির দুই ভাই আমিনুর রহমান ও আব্দুর শুক্কুরের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

বদি পরিবারের আর কেউ মাদকের সাথে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে, জানিয়েছেন সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া।

বুধবার দুপুরে মালিবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এরই মধ্যে মাদকের ১০ জন গডফাদারকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

বদির দুই ভাইয়ের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, তাদের বিষয়ে এখনো অনুসন্ধান চলছে। তাদের নামে আরও সম্পত্তি পাওয়া যাচ্ছে।

সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, ৩৫টির মধ্যে তিনটি মামলার গডফাদারদের ৯.১৪ একর জমি এবং আট কোটি টাকা দামের দুটি বাড়ি আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং মামলায় ব্যাংকে তাদের গচ্ছিত প্রায় এক কোটি টাকাও ফ্রিজ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রায় ৩৭ কোটি টাকা মূল্যের আরও ৩৫ একর জমি, ১২টি বাড়ি, একটি গাড়ি ক্রোকের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান সিআইডি প্রধান।

তিনি আরও বলেন, সিআইডি প্রথমে মাদক সম্পৃক্ত মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তে গভীরে প্রবেশ করে। পরে মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংকে থাকা অর্থ ফ্রিজ করতে সক্ষম হয়।

২০০২ সাল থেকে টেকনাফ পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসার পর ২০০৮ সালে কক্সবাজার-৪ আসন থেকে সংসদে যান আব্দুর রহমান বদি। ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ওই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন আব্দুর রহমান বদি।

২০১৪ সালে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা এক তালিকায় বদি এবং তার ভাই-বেয়াই, মামা-ভাগ্নে মিলিয়ে ১০ জনের নাম আসে।

২০১৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন বদির বেয়াই আক্তার কামাল। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন আক্তারের বিরুদ্ধে মানব পাচারের দুটি এবং মাদক পাচারের তিনটি মামলা ছিল।

মাদকের কারবারে নাম আসায় সমালোচনার মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বদির বদলে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি ওই আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে যেতে হয়েছিলো টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদিকে। পরে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন পান।

বুধবার সিআইডির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২০ সালের পর থেকে ৩৫টি মাদক মামলার তদন্তে নামে সিআইডি। এসব মামলায় নাম আসা ‘গড ফাদারদের’ সম্পদের যে হিসাব পাওয়া গেছে, তার মোট পরিমাণ প্রায় ১৭৮ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা হয়। ২০২১ সালে সারা দেশে ৭৯ হাজার ৬৭৫টি, ২০২২ সালে ৮২ হাজার ৬৭২টি এবং ২০২৩ সালে ৭৬ হাজার ৪০৩টি মাদক মামলা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় যেসব মাদক মামলা হয়, তাতে শুধু মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। যেহেতু আমরা গডফাদারদের নিয়ে কাজ করছি দেখি কতগুলো ধরতে পারি।

এখন পর্যন্ত দশটি মামলায় ১২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানান জানিয়ে সিআইডি প্রধান। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে ১০ জন গডফাদার আছেন।

কেএসএইচ
রাজধানীর পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ৭ ডিসেম্বর নতুন তারিখ ঠিক করেছে আদালত। এ...
‘রক্ষকই যখন ভক্ষক’ কথাটি যেন হুবহু মিলে গেল ‘সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ক্ষেত্রে। যে প্রতিষ্ঠানে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পদে কর্মরত ছিলেন, সেই কোম্পানিরই সাড়ে ১৬ কোটি টাকা নিখুঁত...
নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে অনলাইনে খণ্ডকালীন চাকরির প্রলোভনে ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের...
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির...
কিম কার্দাশিয়ানের মূলধারার অভিনয়ে আত্মপ্রকাশের স্বপ্নটা যেন রূপ নিয়েছিল চরম এক ফ্লপ নাটকে! গত বছর মুক্তি পাওয়া তাঁর আইন বিষয়ক ড্রামা ‘অল’স ফেয়ার’-কে সমালোচনায় তুলোধোনা করেছিলেন সমালোচকরা। কিন্তু...
ব্রিজিত বার্দোর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে যুদ্ধ তুঙ্গে: শেষ সঙ্গীকে ‘সর্বস্বান্ত’ করার নেপথ্যে এক গোপন চিঠি!
সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া আর ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো বাবা-মেয়ের যোগাযোগ। প্রায় পাঁচ দশক ধরে জীবিত অবস্থায় বাবার সঙ্গে দেখা করা হয়নি। অবশেষে শতবর্ষী বাবার মৃত্যুর পর...
৪৫ বছরের কম্যুনিস্ট শাসনের রাজনৈতিক আঘাত ও ট্রমা থেকে হাঙ্গেরিয়ান সমাজকে নিরাময়ের লক্ষ্যে কম্যুনিস্ট আমলের গোপন গোয়েন্দা ফাইলের তথ্য সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করেছে হাঙ্গেরি সরকার। হাঙ্গেরির...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর