চলমান তাপপ্রবাহের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের ফলনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। শতকরা ৬০ ভাগ মুকুল আসলেও বৈরী আবহাওয়ায় মাত্র ২৫ ভাগ গাছে আম ঝুলছে। দ্রুত বৃষ্টি না হলে বা সেচ দিতে না পারলে অবশিষ্ট আমও ঝরে যাবার শঙ্কা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আম চাষি আহসান হাবিব এবছর সাড়ে ১৪ বিঘা জমি দীর্ঘ মেয়াদে লীজ নিয়ে আম চাষ করছেন। পেয়েছেন সরকারি প্রণোদনাও। এরপরও চলতি বছর তার পরিচর্যা খরচ প্রায় ৭ লাখ টাকা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে তার বাগানের ৬০ ভাগ আম কমে এখন ৪০ ভাগে নেমেছে। এই আমও টেকাতে না পারলে ক্ষতি হবে অন্তত তিন লাখ টাকা।
এমন অবস্থা পুরো জেলার আম চাষিদের। প্রচণ্ড তাপদাহ থেকে বাঁচাতে প্রতিদিন সেচ দিচ্ছেন তারা। দিচ্ছেন ছত্রাক নাশক কীটনাশক।আর যাদের সেচ দেয়ার মত অর্থ নেই তাদের অবস্থা আরও করুণ।
চাষি আহসান হাবিব জানান, প্রতি বিঘায় একদিন পানি দিতে লেগে যায় তিন থেকে চার হাজার টাকা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে সাম্প্রতিক চৈত্রের বৃষ্টিতে ঝরে গেছে আমের মুকুল। ফলে গাছে পর্যাপ্ত গুটি আসেনি। এখন তাপপ্রবাহে গাছের গোড়া শুকিয়ে মাটিতে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এতে ঝরে যাচ্ছে আম।
আম রক্ষায় বাগানে সেচের পাশাপাশি গাছে পানি ছিটানোর পরামর্শ দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান।
তিনি বলেন, চাষিদের আমরা ১০ দিন পরপর সেচ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
চলতি বছর জেলায় মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। যা গত বছরের তুলনায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
নতুন করে ৭২ ঘণ্টার হিট অ্যালার্ট জারি