চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর মৌজায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুলতানি আমলের স্থাপত্য সোনা মসজিদ।
এই ঐতিহাসিক নিদর্শনে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। সোনা মসজিদের পাশ দিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক। প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক চলে। এই মহাসড়কে পণ্যবাহী ভারি ট্রাক চলাচলের সময় কেঁপে উঠে মসজিদটি। স্থানীয়রা বলছেন, আট টনের বেশি মালামাল নিয়ে চলা যানবাহনের ঝাঁকুনিতেই ফাটল দেখা দিয়েছে মসজিদটিতে। ঐতিহাসিক এই মসজিদটি রক্ষায় তাই বাইপাস সড়ক নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন তারা।
মসজিদটির প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী মসজিদটি নির্মাণ করেন। শিলালিপিতে নির্মাণের সঠিক তারিখ সম্বলিত অক্ষরগুলি মুছে গেছে। তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর নামের উল্লেখ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, মসজিদটি তার রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোনো এক সময় নির্মিত।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, যখনই ভালী যানবাহন রাস্কায় চলে তখন মসজিদে কম্পন সৃষ্টি হয়। এর ফলে আশংকা হয়। মসজিদে ঝাঁকুনির ফলে অনেক সমস্যা হচ্ছে।
মহাসড়কে বাইপাস নির্মাণের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই প্রত্ননিদর্শন রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এক বাসিন্দা বলেন, একটা বাইপাস হলে মসজিদটি নিরাপদ থাকবে। মসজিদটি ঝুঁকির্পূর্ণ অবস্থায় আছে। দ্রতু বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ছোট সোনামসজিদ রক্ষায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রস্তাব ফাইলবন্দী হয়ে আছে। এরই মাঝে ৪০০ কোটি টাকায় মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এতে রক্ষা পাবে এই মসজিদ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরীন ঝিনুক বলেন, ন্যাশনাল হাইওয়ে বারভূইয়া থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত বর্তমানে কোথাও ২০ ফিট কোথাও ২২ ফিট আছে। এই রাস্তাটি আমরা ৩৩-৩৪ ফিটে প্রশস্ত করছি। যে পাশে সোনা মসজিদ আছে তার বিপরীত পাশে প্রশস্ত করবো।
তবে শিগগিরই কোন ব্যবস্থা না নিলে প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোট সোনামসজিদ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
