অর্থের বিনিময়ে নিজের পরিবর্তে অন্যকে জেল খাটানো রাজধানীর উত্তরার যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আমিনুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নাজমুল। শুনানি আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মাদক মামলার সাজা পাওয়া নাজমুলের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ ওঠে যে, নিজে মাদক মামলার আসামি হলেও অর্থের বিনিময়ে অন্যকে দিয়ে জেল খাটিয়েছেন।
এ বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনায় রোববার নাজমুল হাসানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপরই আইনজীবীর মাধ্যমে এদিন আদালতে হাজির হন তিনি।
নাজমুল অর্থের বিনিময়ে নিজের সাজা অন্যকে দিয়ে খাটাচ্ছেন- একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য ফাঁস হয়। এরপর গত গত ২৪ এপ্রিল জালিয়াতির বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারক, আইনজীবী ও কারা কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন হাইকোর্ট।

২০২০ সালের আগস্ট মাসে উত্তরার এক বাসায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল ও গাঁজা।
ওই ঘটনায় আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে আটক করা হলেও পালিয়ে যান মাদকচক্রের মূলহোতা নাজমুল হাসান। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দুইজনের নামে মামলা করলে বিচারের নাজমুলকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত।
কিন্তু এরপরই জালিয়াতির আশ্রয় নেন উত্তরার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা নাজমুল। অন্য একজনকে ভাড়া করে নিজের নাম-পরিচয় দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করান।
যে লোক ভাড়ায় জেল খাটতে থাকেন তার প্রকৃত নাম মিরাজুল ইসলাম। আর এর মধ্যেই নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
এদিকে ভাড়ায় জেল খাটা মিরাজুল ইসলামকে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন মনজিল মোরসেদ।
ভাড়ায় জেল খাটানো যুবলীগ নেতাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ