এসএ গেমস, কমনওয়েলথ গেমসে সাফল্য এলেও অলিম্পিকে বড্ড ধূসর বাংলাদেশ। নবমবারের মতো ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে। প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটা কেনো এতটা পিছিয়ে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মহারণে? অ্যাথলিটদের দক্ষতা নাকি পরিকল্পনার অভাব?
পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে গলায় মেডেল পড়তে কে না চায়! প্রত্যেকটি অ্যাথলিটের কাছে এ যেনো আজন্ম লালিত, বহু আরাধ্য স্বপ্ন।
জয় নয়, অংশগ্রহণই বড়...অলিম্পিকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এটাই যেনো চিরন্তন সত্য। ব্যর্থ হলেন আবদুল্লাহ হেল বাকী, আশা জাগিয়ে নিরাশ করলেন দেশ সেরা আর্চার রোমান সানা। কিন্তু এই ব্যর্থতার সব দায় কি শুধুই তাদের?
এবারের পদক তালিকায় চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলছে টম এন্ড জেরি লড়াই। ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাচ্ছে মেডাল টেবিল ।
যারা এই পদক এনে দিচ্ছেন এবার তাদের দিকে তাকাই। অলিম্পিককে সামনে রেখে চীন তৈরি করেছে গোটা একটা অলিম্পিক ফ্যাক্টরী । দেশের হাজারটা স্কুলে বছর জুড়ে চলে অ্যাথলিট বাছাই।
আরও পড়ুন: অলিম্পিকের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিলেন দিয়া সিদ্দিকী
যুক্তরাষ্ট্রের আছে ড্রিম টিম...অলিম্পিকের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে তৈরি করা হয় একেক জন অ্যাথলিট।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকেও যদি তাকাই দেখবো কেমন করে তারাও এগিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, আমাদের শুধু নেই আর নেই। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, অ্যাথলিটদের আর্থিক নিশ্চয়তা, বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কিংবা কাঠামোগত ব্যবস্থা, সবকিছুরই ট্র্যাকের মতো ভঙ্গুর দশা।
আব্দুল্লাহ হেল বাকী দেশের সেরা শুটার। কমনওয়েলথে রুপা জিতেছেন টানা দুইবার। আশার বীজ বুনেছেন অলিম্পিকে। তবে বাস্তবতা হলো, ক্রুটিপূর্ণ রাইফেল নিয়েই চলেছে অনুশীলন, নিজেকে ঝালিয়ে নিতে যাওয় হয়নি জার্মানিতে। সেই বাকীর কাছে ভালো ফলের আশা করা আকাশ কুসুম স্বপ্ন বৈ আর কি!
প্রথমবার সরাসরি অলিম্পিকের টিকেট নিশ্চিত করা রোমান সানার দিকেও তাকিয়ে ছিলো পুরো দেশ। শেষ ষোলোর লড়াইতে বাদ পড়েছেন, বলেছেন তার লক্ষ্যটা ২০২৮ অলিম্পিক। তবে প্রশ্নটা হলো, এই লম্বা সময় অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার সব সুযোগ সুবিধা পাবেন তো? মাঝপথেই থমকে যাবেনা তো স্বপ্নযাত্রা?
সত্যিকারের যোদ্ধা তো তারাই যারা হারের আগে হারে না। ইতিহাসও তাদের কখনো ভোলে না। তাই রোমান, দিয়াদের বিশ্বাস রাখতে হবে মনে, অমানিশা কাটিয়ে একদিন আলো আসবেই।
একাত্তর/এসজে
