দেড় দশকেও বাস্তবায়ন করা যায়নি একমুখী শিক্ষানীতি। অন্তত চারধারার শিক্ষা ব্যবস্থা, দেশে ও সমাজে বৈষম্য সৃষ্টির অন্যতম কারণ বলছেন শিক্ষাবিদরা। যদিও শিক্ষার এই নানা মাধ্যমকে বৈচিত্র্য বলেই মনে করছেন শিক্ষামন্ত্রী।
চলমান শিক্ষা কারিকুলাম নিয়েও আছে নানা সমালোচনা। শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে প্রতি বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ স্পষ্ট বলা আছে প্রাথমিক শিক্ষা হবে বাধ্যতামূলক এবং একমুখী। এই প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। একই বই একই পড়া পড়বে ধনী-দরিদ্র সব শিশু। উন্নত দেশগুলোতে সেভাবেই চলছে প্রাথমিক শিক্ষা।
কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষানীতিতে এর কোন প্রতিফল নেই। যদিও বিষয়টিকে নানা মাধ্যমের বৈচিত্র্য বলতে চান শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, শিক্ষার প্রক্রিয়ার মধ্যে বৈচিত্র্য সারাবিশ্বেই আছে। বৈচিত্র্য থাকবেই। সরকারের লক্ষ্য থাকে যে পদ্ধতিতেই শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনের একটা ধাপ অতিক্রম করবে, তাদের যাতে একটা নির্দিষ্ট মান যাতে বজায় থাকে।
ইংরেজি ও কওমি মাদরাসা ভিত্তিক শিক্ষা বরাবরই সরকারের সবরকম নিয়ন্ত্রণের বাইরেই থাকছে। করোনা পরবর্তী সময়ে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থী বেড়েছে, যা এখন প্রায় ২০ লাখ।
মাধ্যম আলাদা হলেও বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মতো পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে বললেন রাশেদা কে চৌধুরী।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন ধারা চলবে, তা ঠিক আছে। কিন্তু, ইংরেজি মাধ্যম, ধর্মীয় মাধ্যমসহ মূলধারার সবগুলোকেই নূন্যতম একটা জায়গায় থাকতে হবে। সেটার বাস্তবায়ন এখনও হয়নি। পাঁচটি অভিন্ন বিষয়ে পাঠদানের যে নূন্যতম উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাও মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।
তবে, ধারার চেয়ে বার বার কারিকুলাম বদল ও নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের সাথে সুর মেলালেন প্রবীণ এই শিক্ষকও।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপদ্ধতি ও শিক্ষাক্রম নিয়ে যত পরিবর্তন এ পর্যন্ত হলো, তার কোনোটাই কিন্তু তেমন উপকারে আসেনি। ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলাম একই রকম থাকছে, মাদ্রাসাতেও তেমন পরিবর্তন আসছে না, ঘটছে শুধু মূলধারায়। এতে মূলধারার শিক্ষা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষাবিদেরা বলেন, কেবল প্রজেক্ট কিংবা প্রযুক্তি দিয়েই শিক্ষার্থীরা শিখবে না। দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষার ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
'একাত্তর কখনোই মাথা নত করেনি অপশক্তির সামনে'