আঙুর ফল বিদেশি হলেও এদেশের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। রোগী থেকে শুরু করে অতিথির বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় আঙুর কিনে যাওয়া চল এই জনপদে বহু পুরনো। কারণ আঙুর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু এই আঙুর ফল বাংলাদেশকে আনতে হয় বিদেশ থেকে আমদানি করে।
বিদেশ থেকে আসে বলে আঙুর ফলের দামও বেশি। তাই দেশে আঙুর চাষের চেষ্টা চলছে অনেক দিন ধরে। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় এ ফলটির পরীক্ষামূলক চাষে সফল হয়েছেন নওগাঁ জেলার একজন উদ্যোক্তা আবুল কালাম আজাদ। তার আঙুর বাগানের লতায় লতায় এখন ঝুলছে আঙুর।
আবুল কালাম আজাদ দিনাজপুরের একজনের সহায়তায় বেশ কয়েকটি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে রোপণ করেছেন। এরইমধ্যে সুমিষ্ট ফল এসেছে বাগানে। এতে আরও বেশি উৎসাহী হয়ে আরো ১৫ শতাংশ নতুন জমিকে আঙুর চাষের জন্য প্রস্তুত করেছেন।

আঙুর অনেক রসালো আর সুমিষ্ট হবার কারণে এই ফল চাষে নিতে হয় বাড়তি সতর্কতা। পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী যেন ফল নষ্ট করতে না পারে সেজন্য বাগানের চারপাশে নেটজাল দিয়ে ঘিরে রাখায় হয়। তাপমাত্রা ঠিক রাখততে বাগানের ওপরের দিকে নেটজাল ও পলিনেটের ব্যবস্থাও রাখতে হয়।
উদ্যোক্তা আজাদ জানান এই বছর তিনি ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে আঙুর ফল খাওয়াবেন। একটি আঙুর গাছ থেকে কমপক্ষে ২০ বছর ফল পাওয়া যাবে। প্রতি ছয় মাস পর পর আঙুর পাওয়া যায়। এ বছর বাগানে বিভিন্ন জাতের ও স্বাদের আঙুর চাষ করেছেন। এরমধ্যে একটি সিডলেস প্রজাতিও আছে।
আঙুর ফল দেখতে আশপাশ থেকে অনেকেই যান আজাদের বাগানে। সেখানে গিয়ে সরাসরি গাছ থেকে পারা আঙুর ফলের স্বাদ নেন তারা। আঙুরফল খাবার পর বেশিরভাগ দর্শণার্থীই জানালেন, আজাদের বাগানের আঙুর ফল সত্যিই সুস্বাদু এবং মিষ্টি। এই বাগান দেখে অনেকেই উৎসাহী আঙুর চাষে।
নওগাঁর কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, এই জেলার মাটি আঙুর চাষের উপযোগী। আজাদের বাগানটি তিনি ঘুরেও দেখেছেন। আঙুর চাষে এই জেলাকে পথ দেখাচ্ছেন আজাদ। অন্য কোনো কৃষি উদ্যোক্তা যদি আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হন তাহলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়ার কথাও জানিয়েছে এই কর্মকর্তা।
আমবাগানে শ্রমিকরা পিটিয়ে মারলো রাসেল ভাইপার