রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি অফিসের পাশেই চায়ের দোকানে আলাপ হচ্ছে বিএনপির আন্দোলন ও এখন বিএনপি কী করবে সেই বিষয়ে। বিএনপি সমর্থক একজন দোকানি ক্ষোভ নিয়ে বলেই ফেললেন, এখন আন্দোলন চাঙ্গা হবে জাতীয় ইস্যুতে। কিন্ত নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন, চিকিৎসা আন্দোলন এখন কর্মীদের খাওয়ানো মুশকিল। ক্ষমতা নাই, টাকা নাই, আন্দোলনের ডাক দেয়া সেই নেতা নাই, তাহলে কিসের আন্দোলন।
বিএনপি তাদের সর্বোচ্চ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর হতাশাগ্রস্ত-বিধ্বস্ত দলটিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর জন্যই খালেদা জিয়ার ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে গত ১৫দিনে বিএনপির বিভিন্ন কমিটি ভেঙে নতুন করে হাজির করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও, আন্দোলনের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা একেবারেই ছিল না। কর্মীদের মধ্যে এই আন্দোলন নিয়ে কোন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়নি।
বিএনপির সামনে কী ইস্যু নেই, তারা কেনো আবারও নেত্রীর মুক্তি ও চিকিসা আন্দোলনে ফিরলেন প্রশ্নে নেতাদের কাছ থেকে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আমাদের সামনে অনেক ইস্যু রয়েছে- নজিরবিহীন দুর্নীতি, বেনজীর, আজিজ, মতি কেলেঙ্কারি- কী নেই এখন। এসব নিয়ে সরকারকে চাপে ফেলার সুযোগও আছে। কিন্তু আমাদের কিছু ঝামেলা আছে। নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে রাজপথ গরম রাখাও দরকার। তাই এখন বিএনপি এখন খালেদার মুক্তি এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ইস্যুতে আন্দোলন করছে। আরেকটু সংগঠিত হয়ে, দলের বিভাজনগুলো কমিয়ে এনে অন্য ইস্যু ধরা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, বিএনপির কর্মীদের মধ্যে আন্দোলন ও এর ধরন নিয়ে নানারকম মত রয়েছে। তারা বরং দলের কমিটি কী হচ্ছে, কারা নেতৃত্বে আসছে, কোথায় কোন কমিটি বাণিজ্য হচ্ছে- এ নিয়ে আলোচনায় বেশি আগ্রহী। তাদের কেউ সরাসরি কথা বলতে রাজি নন। কেনো এবং কী নিয়ে আন্দোলন সে বিষয়ে কর্মী বা কেন্দ্রীয় নেতাদেরও পরামর্শ নেওয়া হয় না বলেই মনে করেন তারা। তাদের মতে, সরকার যে পরিমান দুর্নীতি বের করছে, সেগুলো নিয়ে কোন আলাপই না করতে পারা বিএনপির ব্যর্থতা। লণ্ডনের সঙ্গে ঢাকার সমন্বয় না থাকা এরজন্য দায়ী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায় মনে করেন এসময়ে এসে এই ধরনের কর্মসূচি শুধু বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তারা সবসময়েই আন্দোলন করতে পারেন কিন্ত নির্বাচনের পরে দল গুছানো ও তাদের মনোবল ধরে রাখার জন্য শুরুর আন্দোলন হিসেবে এইটা দুর্বল। এই কথার সঙ্গে একমত প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কে্ন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, একটা বিরতির পরে নতুন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ করার জন্য শক্তিশালী ইস্যু দরকার। উল্লেখ্য, মহানগরগুলোতে বিক্ষোভ এর পরে ৩ জুলাই বিএনপি জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করছে।
এআই নিয়ে আইনের কথা ভাবছে সরকার