কঠোর বিধিনিষেধে বন্ধ থাকার পর খুলতে যাচ্ছে গার্মেন্টসসহ রপ্তানি-মুখী শিল্প-কারখানা। কিন্তু গণপরিবহনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে অথবা ছোট যানে ভেঙে ভেঙে ফিরতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানী অভিমুখে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় প্রবেশদ্বার-খ্যাত এলাকাগুলোতে।
একাত্তর প্রতিবেদকরা জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। ফেরিতে সামাজিক দূরত্ব না মেনে গাদাগাদি করে নদী পার হয়ে আসছেন এসব মানুষ। একই অবস্থা সড়ক পথে।
মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজি ও ভ্যানগাড়িতে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা চলাচল করছেন। শ্রমিকদের অতিরিক্ত চাপে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ী, জৈনাবাজার, নয়নপুর, মাওনা চৌরাস্তা, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী, বাঘের বাজার, রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর চৌরাস্তা ও টঙ্গী এলাকার শ্রমিকরা দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছে।
আরও পড়ুন: বিধিনিষেধের অষ্টম দিনে ঢাকায় গ্রেপ্তার ৩৮১
অপরদিকে রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড় দেখা গেলেও হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্টগুলোতে পুলিশি পাহারা তেমন একটা চোখে পড়েনি।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী রোববার (১ আগস্ট) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তবে, চলমান বিধিনিষেধে শ্রমিকেরা দূর থেকে কীভাবে কর্মস্থলে ফিরবেন, তার কোন নির্দেশনা নেই। আর কারখানা খুলে দেয়ার খবর পেয়ে মানুষ যে যেভাবে পারছে, গ্রাম থেকে ফিরে আসছে।
অবশ্য ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামে গেছেন, তারা যদি ১ আগস্ট চাকরিতে যোগদান করতে না পারেন, তাহলে তাদের চাকরি যাবে না বলে জানিয়েছেন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান।
আরও পড়ুন: রোববার থেকে খুলছে শিল্প-কারখানা
তবে, অভিযোগ রয়েছে- কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন করে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের পাশাপাশি যথাসময়ে উপস্থিত না হলে চাকরি থাকবেনা বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। যা চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। বিধিনিষেধ চলাকালে দেশের সব শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে ঈদের পর থেকেই কারখানা খোলার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৩০ জুলাই) গার্মেন্টসসহ রপ্তানি-মুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ।
একাত্তর/আরএ
