বিনিয়োগের এখনই সময়, চীনা ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪৫ পিএম

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চীনের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই সময়, আমরা এক সঙ্গে বড় কিছু অর্জন করতে পারি। পাশপাশি চীন ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ে সাংগ্রিলা সার্কেল হোটেলে ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সুবিধা’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান।

বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ টানতে যৌথভাবে এই সম্মেলন আয়োজন করেছে বিডা ও বিএসইসি। বাংলাদেশ থেকে দুইশ’র বেশি ব্যবসায়ীর প্রতিনিধি দল সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীও এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। 

বিনিয়োগের জন্য চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের প্রধান সেক্টরগুলোকে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিক সেক্টরে বিনিয়োগের অপার সুযোগ রয়েছে।  

এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় সেক্টর তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে আসতেও বিনিয়োগকারীদের আহবান জানান শেখ হাসিনা।

তিনটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চীন এখানে রিয়েল স্টেট ও সেবা খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। পাশাপাশি এসব সেক্টরের বাইরেও নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ সম্ভবনা অনুসন্ধান করার আহবান জানান তিনি।

বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল যুগে আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সক্রিয়ভাবে তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। স্টার্টআপদের প্রণোদনা, টেক পার্কে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিকে উৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ভালো করছে। আপনাদেরকেও এই যাত্রার অংশ হওয়ার আহবান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং গ্রিন টেকনোলজিতে প্রচুর সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি।

বাংলাদেশে ভূকৌশলগত অবস্থানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সকল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন রুটের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কানেকটিভিটি রয়েছে। এছাড়াও আমরা দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়া কেন্দ্রে।  

বন্দর ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অব্যাহত ভাবে আমাদের সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর এবং স্থলপথগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করে যাচ্ছি।  বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজারের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসা লাভজনক করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  

সারাদেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৮ হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য এসব অর্থনৈতিক ভালো ভাবে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ ও সুন্দর করতে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য করতে চাই।  

এ লক্ষ্য অর্জনে পদ্মা বহুমুখী সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেল চালুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এবং দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট চালুসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।  

বাংলাদেশে সস্তা ও দক্ষ জনশক্তি, আইটি ফ্রিল্যান্সারের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।  

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্য বিষয়ক চীনা ভাইস মিনিস্টার লি ফেই, চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং টংজোউ, এইচএসবিসি চীনের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও মার্ক ওয়াং, হুয়াওয়ে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চায়নার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেইজিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে একটি তথ্য চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।  

বক্তারা দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।  

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬ টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।  

দীর্ঘ সময় ধরেই চীন বাংলাদেশের পণ্য আমদানির প্রধান উৎস। বিশ্বের বড় রপ্তানিকারক ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। একই সঙ্গে দ্বিতীয় আমদানিকারক দেশও। চীনের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগও সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। যা মোট বিদেশি বিনিয়োগের মাত্র ছয় শতাংশ।

একাত্তর/এসি
ভবিষ্যতের তরুণ প্রজন্মই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে এখন থেকেই একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জনস্বাস্থ্যসম্মত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে যুবসমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন...
রাজধানীর আগারগাঁও অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আকস্মিক পরিদর্শনকালে নিজ কক্ষে বসা অবস্থায় এক চিকিৎসককে ধূমপান করতে দেখে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু...
ডেঙ্গু মহামারি রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজসহ দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এগিয়ে আসার আহ্বান...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সংঘটিত ভয়াবহ আগুনে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে।...
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে শুরু হয়েছে চরম চাঞ্চল্য ও অস্থিরতা! পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে রিয়াদগামী নিজেদের সব উড্ডয়ন বা ফ্লাইট এক ধাক্কায় অনির্দিষ্টকালের...
সুদূর চীনের হেনান শহর থেকে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে সোজা বাংলাদেশের মাদারীপুর সদর উপজেলার চাপাতলী গ্রামে হাজির হয়েছেন ওয়াং এরলিং নামের এক চীনা যুবক। উদ্দেশ্য একটাই, মন দেয়া-নেয়া হওয়া মাদারীপুরের...
বোন জামাই ঘরে তোলার আনন্দঘন মুহূর্ত যে এভাবে রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে, তা হয়তো লুদরপুর গ্রামের কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি! ছোট বোনের বিয়ের দাওয়াত নাকি দেয়া হয়নি সময়মতো, শুধুমাত্র এই সামান্য ‘জিদ’...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর