নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দল আন্দোলনের নামে রাজপথে নতুন নাটক শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশ যখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, তখন গঠনমূলক ভূমিকা না রেখে বিরোধী দলগুলো জনগণকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত নৈরাজ্য ও চক্রান্তের প্রতিবাদে ‘জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (জেটেব) এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে রিজভী বলেন, পত্রিকা খুললেই দেখা যায় বিরোধী দলগুলোর কেবল ‘নাই নাই’ জিকির। দেশের উন্নয়ন কিংবা মানুষের কল্যাণে তাদের কোনো নজর নেই। নিজেদের চরম দ্বন্দ্ব ও ব্যর্থতা গোপন করতেই তারা রাজপথে নামার নতুন নতুন বাহানা খুঁজছে এবং নানা কর্মসূচির নাটক সাজাচ্ছে।
অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, অন্যায় ও অপশাসন চালিয়ে কোনো শাসকই শেষ পর্যন্ত টিকতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, জনগণ রাজপথে নেমে এলে অপরাধী শাসকদের ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হয়। বাংলাদেশেও জোর করে ক্ষমতায় থাকা স্বৈরাচারী শক্তিকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রিজভী জানান, দুর্গোৎসব যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপিত হতে পারে, সে জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সারা দেশে দলের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে রিজভী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, বেইমানি ও হত্যার দিন শেষ। এখন থেকে আইন ও আদালতের মাধ্যমেই প্রতিটি অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।
জেটেব সভাপতি প্রকৌশলী ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন মিশু, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জাহানারা সিদ্দীকা, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের নেতা রকিবুল ইসলাম, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কাজী সাখাওয়াত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি চিকিৎসক জাহিদুর রহমান ও ছাত্রদলের সহসভাপতি চিকিৎসক তাওহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
