পিছিয়ে পড়া সকল গোষ্ঠী যাতে সমান সুযোগ পায় তার জন্য কোটা পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা। আর এজন্য আলাদা কমিশন গঠনের তাগিদ দিয়েছেন তারা।
রাজধানীর বনানীতে দেশের গণমাধ্যমের সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ডের গোলটেবিল আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন তারা।
কোটা ও পেনশন বির্তক শীর্ষক ওই গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে আছে তাই এখনি এ নিয়ে আলোচনা করা ঠিক হচ্ছে না। এছাড়া এই আন্দোলনে অন্য কোনো পক্ষ ফায়দা নিচ্ছে কি না সেদিকেও ছাত্রদের নজর দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।
একই সাথে, এই সঙ্কট সমাধানে ছাত্রদের সাথে আলোচনায় বসতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান বিশিষ্টজনরা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা ছাত্রদের ভেবে দেখতে বলি তারা আন্দোলনটা কেন করছে। এখানে অন্যরা কোনো ফায়দা নিচ্ছে কি না ভেবে দেখতে বলি ছাত্রদের। তোমরা কমিশন চাও। এই কমিশন গঠন করা হয় কি না দেখো।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ ছাত্রদের সাথে কথা বলেন। তবেই সমাধান হবে বলে আমি মনে করি।
সাবেক শিক্ষা সচিব এন আই খান বলেন, তারা আন্দোলন করছে। কোর্টের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই আন্দোলনের পিছনে অন্য কোনো শক্তি আছে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, কোটা প্রথা যেটা আছে মেধাবীদের সাথে বন্টন করা হয়েছে। কোটা বাতিল করা সঠিক হয়নি। বেশির ভাগই মানুষই সংস্কার চায়। কিন্তু এদের মধ্যে অন্য ধারা ঢুকে পরছে সেটা দুঃখজনক। সংস্কার করার জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। আদালতের বিষয় সংসদে আইন করার সুযোগ নেই। সকল গোষ্ঠী যাতে সমান সুযোগ পায় তার জন্য সংস্কার করতে হবে।
সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ নিয়ে শিক্ষকদের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় অবিশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষকদের বুঝতে হবে প্রত্যয় স্কিম সকলকে এক করাই লক্ষ্য। সকলের প্রতি আস্থা থাকা দরকার। আলোচনা করে সরকারের প্রতি অনুরোধ করার আহ্বান জানাই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, মেধাকে মূল্যায়ন করতে হবে। কোটা সংস্কার চায় তারা। এটা পরিবর্তন করা কঠিন কিছু বিষয় নয়। কোর্ট বলে দিয়েছে, সরকার চাইলে এটা পরিবতন করতে হবে।
ডাকসুর প্রথম নারী এই ভিপি বলেন, শিক্ষকরা যেভাবে রাজনীতির সাথে জরিয়ে গেছে তা দুঃখজনক।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের নিজেদের মধ্যে মিল নাই। এরা বুঝতে পারছে না ওদের আন্দোলন ছিনতাই হয়ে গেছে। বিভিন্ন দল নিজেদের বক্তব্য দেয়া শুরু করছে। যতটুকু সম্ভব সংস্কার করা উচিত।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, মেয়েরা কোনো কোটা পাচ্ছে না। এটা কমে যাওয়াটা ভালো লক্ষণ নয়। শিক্ষকরা এই আন্দোলন করছে তাদের সন্তানরা যাতে এই সুবিধা যাতে পায় তারজন্য?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সমাধানের চেষ্টা করা দরকার। কারণ, এই আন্দোলনের জন্য সাধারন মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। অবিলম্বে সব বিষয় বিবেচনার রেখে সংস্কার করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের যত উন্নয়ন হোক না কেনো দেশের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি। প্রত্যয় স্কিম করা হয়েছে তা শুভংকরের ফাঁকি।
