বিশ্ব ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় আসর ‘অলিম্পিক গেমস’। এবার সেই আসরটি বসেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস আর যুক্তরাজ্যের লন্ডনের পর তৃতীয় শহর হিসেবে তিনবার অলিম্পিক আয়োজন করছে সিন নদীর তীরে ভালোবাসা আর প্রেমের শহর হিসাবে খ্যাত প্যারিসে। শুধু প্রেম-ভালোবাসাই নয়, শিল্প-সাহিত্যের তীর্থভূমি হিসাবেও জগতজুড়ে পরিচিতি রয়েছে প্যারিস শহরেই।
সেই শহরেই ১০০ বছর পর ফিরলো অলিম্পিক গেমস। ১৯০৪ আর ১৯২৪ সালে প্যারিস ছিলো অলিম্পিকের শহর। আগের সবগুলো অলিম্পিক আসরের উদ্বোধন স্টেডিয়ামের ভেতরে হলেও এবার হচ্ছে বাইরে। সিন নদীর তীরে সেই মহাযজ্ঞ এখন শুধু শুরু হবার অপেক্ষায়। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে) পর্দা উঠবে প্যারিস অলিম্পিক গেমসের।
আয়োজক কমিটির প্রধান টনি এস্তানগুয়ে জানিয়েছেন, সিন নদীতে কোন কিছু আয়োজন করা, স্টেডিয়ামে আয়োজনের চেয়েও কঠিন। তবে এটি আরও বেশি আকর্ষণীয় হবে। মূলত অনুষ্ঠানস্থলের আকার ও প্যারেড আয়োজনের জটিলতার কারণে কাজটা কঠিন বলে জানিয়েছেন এস্তানগুয়ে। তা ছাড়া, পূর্ণাঙ্গভাবে মহড়া দিতে না পারাও, কাজটাকে জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য আয়োজনটি। ঐতিহ্য মেনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সবার আগে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে অলিম্পিকের জন্মভূমি গ্রিসকে। তাদের পর দেখা যাবে শরণার্থী অলিম্পিক দলকে। আর সবার শেষে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে আয়োজক দেশ ফ্রান্সকে। আর রাশিয়া ও বেলারুশের অ্যাথলেটরা এই আয়োজনে অংশ নেবেন ব্যক্তিগত পরিচয়ে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজনটি পরিকল্পনা করছেন প্রখ্যাত থিয়েটার পরিচালক টমাস জলি। পুরো অনুষ্ঠান ১২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেখানে তিন হাজার নৃত্য ও সংগীতশিল্পী এবং বিনোদনকর্মী অংশ নেবেন। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা সিনের দুই তীরের সেতুতে ও কাছাকাছি স্মৃতিস্তম্ভগুলোয় থাকবেন। উদ্বোধনীতে দুই-তৃতীয়াংশ আয়োজন দিনের আলোয় আয়োজন করা হলেও বাকি অংশ দেখা যাবে গোধূলিবেলায়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৬-৭ হাজার অ্যাথলেট আইফেল টাওয়ারের পূর্ব কোণের অস্টারলিটজ সেতু থেকে নৌকা ও বার্জে করে সিন নদীর ৬ কিলোমিটার পাড়ি দেবেন। প্রায় পাঁচ লাখ দর্শক বিশেষভাবে তৈরি স্ট্যান্ড থেকে এই আয়োজন দেখবেন। এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার ইউরো মূল্যর উদ্বোধনী টিকেটের সবই বিক্রি হয়ে গেছে। তবে সিনের তীর ও আশপাশের ভবন থেকেও বিনা মূল্যে দেখা যাবে এই অনুষ্ঠান।
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিক আয়োজনে ৮.২ বিলিয়ন ডলার খরচ করছে আয়োজকরা। স্টেডিয়াম নির্মাণ, সংস্কার থেকে নিরাপত্তা এবং ক্রীড়াবিদদের আবাসন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণের এই অর্থ খরচ করতে যাচ্ছে প্যারিস। তবে খরচের দিক থেকে সব অলিম্পিককে ছাড়িয়ে গেছে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক। সেবার ২০ বিলিয়ন খরচ করেছিলো জাপান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে প্যারিসজুড়ে নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে, শহরটির পুলিশ কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনীসহ গোটা আসর সফল করতে ফরাসি পুলিশ কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরে আগত অতিথিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে। জানা গেছে, প্রায় ৪৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী পুরো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
