গাজা গণহত্যার প্রতিশোধ হিসেবে দখলদার ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর উম্ম আল-রাশরাশ বা ইলাতে আরেকটি যৌথ অভিযান চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধ বাহিনী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তেল আবিব।
শুক্রবার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরোধ বাহিনী বেশ কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করে ইলাতে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ নেতা আব্দুল মালিক আল হুতি বলেন, হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ এবং হিজবুল্লাহ কমান্ডার ফুয়াদ শুকরকে হত্যা করার পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন চরমে পৌঁছেছে।
তিনি আর বলেন, তাদের হত্যাকাণ্ড এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।
এর আগে বুধবার লোহিত সাগরে দখলদার ইসরাইল সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজ এবং দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে (ডেস্ট্রয়ারে) হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সামরিক বাহিনী।
ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট, ড্রোন ইউনিট এবং নেভাল ফোর্স সম্মিলিতভাবে এসব হামলায় অংশ নেয়।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত লাখ ছাড়িয়েছে।
এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সামরিক বাহিনী এডেন উপসাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ইসরাইলের জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করলে হুতি সমর্থিত সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইসরাইলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের জাহাজকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে।
গেলো দশ মাসে ইসরাইল ও তার মিত্রদেশগুলোর শতাধিক জাহাজ ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। পাশাপাশি ইসরাইলের একটি সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং দুই মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হুতিদের হামলা
হাইফা বন্দরে যে কোনো মুহূর্তে ইরান-হিজবুল্লাহর হামলা, পালাচ্ছে ইসরাইলিরা